অস্ট্রেলিয়ার কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশন এবং তার প্রধান পলিন হ্যানসনের বর্ণবাদী ও অভিবাসীবিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে আজ দেশব্যাপী ব্যাপক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস (এনইউএস) আহূত এই কর্মসূচিতে সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ ও ক্যানবেরাসহ প্রধান প্রধান শহরের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নামে। শিক্ষা খাতে বাজেট কমানো, শিক্ষার্থীদের ওপর ঋণের বোঝা বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকট মোকাবিলায় কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে অভিবাসীদের দোষারোপ করাকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলন গড়ে ওঠে বলে জানান আয়োজকরা।
সিডনির টাউন হলের সামনে দুপুর থেকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে, তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড। এনইউএসের সভাপতি ফিলিক্স হিউজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষা বাজেট হ্রাস এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মতো প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে পলিন হ্যানসন অভিবাসীদের ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছেন। তিনি একে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের প্রতিরোধ হিসেবে বর্ণনা করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিডনিতে পড়ুয়া এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জানান, অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা বানিয়ে রাজনীতি করছেন হ্যানসন। শিক্ষা ও সমাজের সর্বস্তরে বৈষম্যের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই বর্জন কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেছেন পলিন হ্যানসন। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের উচিত নিজে নিজে চিন্তা করতে শেখা, কারও নির্দেশ মতো চিন্তা করা নয়। প্রতিবাদ করার প্রয়োজন হলে অভিভাবকদের আয় কমে যাওয়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো নিয়ে আন্দোলন করা বেশি যুক্তিসঙ্গত বলে মত দেন তিনি। লিবারেল ন্যাশনাল পার্টির সাংসদ বার্নাবি জয়েস এই পদযাত্রাকে প্রথাগত আন্দোলন নয় বরং শিক্ষক ও সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলোর উসকানি বলে অভিহিত করেছেন। তবে গ্রিনস পার্টির সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ শিক্ষার্থীদের এই সক্রিয়তার প্রশংসা করে বলেছেন, তরুণেরা নিজেদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক।
রয় মরগানের সাম্প্রতিক এক জরিপে ওয়ান নেশনের জনসমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ার খবর প্রকাশের পর এই সমন্বিত বিক্ষোভ অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের অংশগ্রহণ এবং সংগঠিত ক্লাস বর্জন দেশটির অভিবাসন ও শিক্ষানীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।




