মার্কিন সংগীতচার্টের সবচেয়ে সম্মানজনক তালিকা বিলবোর্ড হট ১০০-তে এবার নতুন ইতিহাস লিখলেন এলা ল্যাংলি। তার কান্ট্রি ঘরানার আলোচিত গান ‘চুজিন টেক্সাস’ টানা ১৭ সপ্তাহ ধরে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে, যা গত কয়েক দশকে খুব কম গানই করতে পেরেছে। এই অর্জনের মাধ্যমে গানটি বিলবোর্ডের মূল তালিকার ইতিহাসে চতুর্থ দীর্ঘতম নম্বর ওয়ান গানের মর্যাদা পেয়েছে।

এত দিন পর্যন্ত এই তালিকায় মারিয়াহ কেরির ‘ওয়ান সুইট ডে’ ১৬ সপ্তাহ ধরে শীর্ষে ছিল, যা এখন পেছনে ফেলে দিয়েছেন ল্যাংলি। কেরির গানটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে চার্টের শীর্ষে ছিল। তবে ল্যাংলির গানটি সেই রেকর্ড অতিক্রম করে দেখিয়ে দিল যে নতুন প্রজন্মের কান্ট্রি মিউজিকের প্রতি শ্রোতাদের আগ্রহ কতটা প্রবল।

‘চুজিন টেক্সাস’ গানটি প্রকাশের পর থেকেই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। টেক্সাসের সংস্কৃতি, প্রেম আর স্বাধীনতার চেতনাকে তুলে ধরা এই গানটি তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশেষভাবে সাড়া ফেলেছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতেও গানটি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে, যা এই দীর্ঘ শীর্ষস্থান ধরে রাখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

চার্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এক নম্বরে থাকা গানের তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছে লিল নাস এক্সের ‘ওল্ড টাউন রোড’ (১৯ সপ্তাহ), তারপরই আছে লুইস ফনসি ও ড্যাডি ইয়াংকির ‘ডেসপাসিটো’ (১৮ সপ্তাহ)। তৃতীয় অবস্থানে থাকা গানটির পরেই এখন চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ‘চুজিন টেক্সাস’। শুধু মারিয়াহ কেরিই নন, এই তালিকায় বয় জন, বিটলস, এবং আরও অনেক কিংবদন্তি শিল্পীর রেকর্ডকেও পেছনে ফেলেছে ল্যাংলির এই গান।

এদিকে, এই সাফল্যের পর এলা ল্যাংলির ভক্তরা তার নতুন প্রকল্পের অপেক্ষায় রয়েছেন। গানটি এখনো চার্টের শীর্ষে টিকে থাকায় আগামী সপ্তাহগুলোতে এটি আরও রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না এলেও, শিল্পী নিজে সামাজিক মাধ্যমে এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বিলবোর্ড হট ১০০-এর এই রেকর্ডটি প্রমাণ করে যে কান্ট্রি মিউজিক এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সারাবিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের কাছে পৌঁছে গেছে। ল্যাংলির এই সাফল্য সমসাময়িক কান্ট্রি শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।