বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতে এক নতুন সংযোজন হিসেবে যাত্রা শুরু করল ‘দ্য ফ্লুয়েন্ট ফ্রিল্যান্সার’। শুক্রবার উদ্বোধনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করা এই প্ল্যাটফর্মটি আন্তর্জাতিক মুক্ত পেশার বাজারে দেশীয় তরুণদের আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর প্রতিষ্ঠাতা শামীম হুসাইন।

উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নবাগত এবং অভিজ্ঞ উভয় ধরনের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেশাগত উৎকর্ষ বৃদ্ধি করা। এতে ক্রেতা সংযোগ, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গঠনের মতো বিষয়াবলিতে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে। শামীম হুসাইন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বহু তরুণ যদিও কঠিন প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করছে, তবুও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সাথে কার্যকর কথোপকথন, পেশাদারি মনোভাব ও তাদের ধরে রাখার মতো আচরণগত দক্ষতার সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। এই ঘাটতি দূর করাই ‘দ্য ফ্লুয়েন্ট ফ্রিল্যান্সার’-এর অভীষ্ট।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আস্থা ও পেশাদার সাবলীলতার অভাবে দেশের অসংখ্য তরুণ বৈশ্বিক সুযোগ থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে সেই ব্যবধান দূর করাই তাদের পরিকল্পনা। এটি নিছক একটি অনলাইন শিক্ষা মঞ্চ নয়; বরং একটি এআই-চালিত শিখন বাস্তুসংস্থান, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী ব্যক্তিগতকৃত শেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। সেই সাথে তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কথোপকথন চর্চা এবং বাস্তব ক্লায়েন্ট মিথষ্ক্রিয়ার অনুশীলনের সুযোগ পেয়ে তারা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য তৈরি হতে পারবে।

প্ল্যাটফর্ম সূত্র থেকে জানা গেছে, এখানে এআই-নির্ভর ব্যক্তিগত পড়াশোনার রুটিন, ইংরেজি বলার মহড়া, লেখালেখির পর্যালোচনা, উচ্চারণ বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার তৈরির উপকরণ এবং বৈশ্বিক ক্রেতার সাথে বাস্তবানুগ যোগাযোগের অনুশীলনের মতো সুবিধাগুলো সমন্বিত থাকবে। ওয়েবসাইটে ধাপে ধাপে শিক্ষণ কন্টেন্ট, বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরিকৃত গাইডলাইন, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং পেশাদার উন্নয়নের বিভিন্ন উপকরণও স্থান পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে এখানে। ফ্রিল্যান্সিং সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ‘দ্য ফ্লুয়েন্ট ফ্রিল্যান্সার’ দেশের মুক্ত পেশার ইকোসিস্টেমকে আরও মজবুত করবে এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।