চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে নগরের কাজীর দেউড়ি সংলগ্ন হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউ পর্যন্ত সড়কপথে যাতায়াতের সময় একটি স্পষ্ট বৈষম্য লক্ষ্য করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, সড়ক বিভাগের কর্মীরা কেবল সেই পাশের রাস্তা ও ডিভাইডারে নতুন রং লাগিয়েছেন এবং পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করেছেন, যে পথ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর অতিক্রম করেছে। বিপরীত দিকের সড়ক ও ডিভাইডারে কোনো ধরনের রং বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে একই সড়কের দুই পাশে তীব্র বৈসাদৃশ্য তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই যাতায়াতের পেছনের কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক হাটহাজারী সফর। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ওই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক অংশ শেষ হওয়ার পর তিনি সড়কপথে চট্টগ্রাম নগরের দিকে রওনা হন। নগরের কাজীর দেউড়ি সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে পৌঁছে তিনি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি সভায় মিলিত হন।

হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। সভায় কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বা কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে হোটেল ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফরের সময় প্রশাসনের একপাক্ষিক মনোযোগ দীর্ঘদিনের একটি প্রবণতা। বন্যা পুনর্বাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের পরেও যখন সড়ক ব্যবস্থাপনায় এমন বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়, তখন জনসেবামূলক কাজের সমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাদের মতে, যাতায়াতের পথে সীমাবদ্ধ না রেখে সমগ্র সড়কজুড়ে সমান পরিষেবা নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল।

এই ঘটনা আবারও ইঙ্গিত দেয়, নেতৃবৃন্দের সফরকে ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়। যে অংশ দিয়ে গাড়িবহর চলে, কেবল সেখানেই সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ সীমাবদ্ধ রাখার এই চর্চা স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনে হয়, সকলের জন্য সমান ও টেকসই সেবার নিশ্চয়তায় প্রশাসনের আরও সতর্ক ভূমিকা প্রয়োজন।