ক্লিভল্যান্ড গার্ডিয়ানস আমেরিকান লিগের (এএল) ইতিহাসে এক বিরল অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। দলটির ১০ হাজার নিয়মিত মৌসুম জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করতে এখন প্রয়োজন মাত্র চারটি জয়। এখন পর্যন্ত কেবল নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিস (১০,৯৩৪) ও বোস্টন রেড সক্স (১০,১০২) এই অর্জনের স্বাদ পেয়েছে। ১৯০১ সালের ২৪ এপ্রিল মেজর লিগ শুরু হওয়ার দিন শিকাগো হোয়াইট সক্সের কাছে ৮-২ ব্যবধানে হেরে যাত্রা শুরু করেছিল ক্লিভল্যান্ড ব্লুজ নামের দলটি।
ঐতিহাসিক সেই সূচনার পর থেকে দলটি বিভিন্ন নামে খেলেছে। তাদের প্রথম নয়টি "সহস্রতম" জয়ের পেছনে রয়েছে বাহারি কাহিনী। এরমধ্যে চারটি জয় এসেছিল প্লেয়ার-ম্যানেজার এবং একটি পিচিং কোচের অধীনে। খেলোয়াড়-ম্যানেজার ন্যাপ লাজোই, ট্রিস স্পিকার ও ল্যু বউড্রোর মতো কিংবদন্তিরা দলকে পথ দেখিয়েছেন। ১৯১২ সালে প্রথম জয় এনে দেন লেফটি জেমস, আর পরের পিচিং কোচ মেল হার্ডার এবং তারকা খেলোয়াড় ডেনিস একার্সলি, গ্রেগ সুইন্ডেল ও উইল কর্ডেরোরা দলকে এগিয়ে নিয়ে যান।
২০১৩ সালে ৯,০০০তম জয়ের পরপরই দলটি চমকপ্রদ জয়ের ধারায় প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল। টেরি ফ্রাঙ্কোনার কোচিংয়ে সেই বছর শেষ ১৭ ম্যাচের ১৫টি জিতে ওয়াইল্ড কার্ড বার্থ ছিনিয়ে নেয় ইন্ডিয়ানস (গার্ডিয়ানসের পূর্বনাম)। ২০২৬ সালেও একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চায় ক্লিভল্যান্ড। বর্তমানে দলটি আমেরিকান লিগের অত্যন্ত জমজমাট প্লে-অফ দৌড়ে শিকাগো ও মিনেসোটার সাথে ৫৫ হারে জয় নিয়ে যৌথভাবে অবস্থান করছে। বস্টন ও এএল সেন্ট্রালের শীর্ষে থাকা শিকাগোর চেয়ে তারা মাত্র তিন গেইম পিছিয়ে। টেক্সাস, বাল্টিমোর, সিয়াটল, ডেট্রয়েট ও টরোন্টোর ম তারাও খুব কাছাকাছি অবস্থান করায় রেসি নাটকীয় হয়ে উঠেছে।
এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে দলটি এক কৌশলী খেলোয়াড় বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ন্যাশনাল লিগ সেন্ট্রালের নেতৃত্বে থাকা মিলওয়াকে ব্রিউয়ার্সের কাছে তারা ক্যাচার বো নেইলর ও পিচার কোডি হিউয়ারকে পাঠিয়ে বদলে নিয়ে এসেছে আউটফিল্ডার ব্লেক পারকিন্স ও রিলিভার ক্রেগ ইয়োহোকে। পারকিন্স, যিনি একজন সুইচ-হিটার, তার অসাধারণ প্রতিরক্ষামূলক সেন্টার ফিল্ডার দক্ষতা দলের চাহিদা পূরণ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই চালটি হয়তো আরও বড় কোনো চুক্তির ইঙ্গিত। স্টিভেন কাওয়ান ও কোনো পিচারকে পাঠিয়ে ব্যাটিংয়ে অধিক শক্তিধর কোনো আউটফিল্ডার আনার পরিকল্পনা থাকতে পারে গার্ডিয়ানসের। সোমবারের বাণিজ্য সীমার শেষ সময় সন্ধ্যা ৬টার আগে পরবর্তী পদক্ষেপই প্লেয়-অফের দৌড়ের গতি নির্ধারণ করে দিতে পারে।
আটটি ন্যাশনাল লিগ দল ইতিমধ্যে ১০ হাজার জয়ের গণ্ডি পেরিয়েছে। ১৮৭৬ সালে এনএল যাত্রা শুরার পর সেখানে এই বিরল ক্লাবে রয়েছে। কিন্তু এএলে এখনও পর্যন্ত দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি। ক্লিভল্যান্ড যদি এই তিকতা অর্জন করে, তবে তারা তৈরি করবে নতুন এক ইতিহাস। সমর্থকদের কাছে তাই এই মৌসুমে ডবল লড়াইয়ের অপেক্ষা—একদিকে প্লে-অফের টিকিট, অন্যদিকে ১০ হাজার জয়ের গৌরবময় সোপান।




