একজন ফুটবলারের কাছে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপ পাওয়ার অনুভূতি অনেক সময় আজীবনের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকে। কিন্তু ফ্রান্সের ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য বেঞ্জামিন মেন্দির কাছে সেই স্মারকটিই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্থান সংকটের কারণ দেখিয়ে তিনি তাঁর অফিশিয়াল রেপ্লিকাটি নিলামে তুলে দিয়েছেন এবং সমালোচনার শিকার হয়ে রসিকতার সঙ্গে জবাব দিয়েছেন।

ফরাসি ক্রীড়া সাময়িকী লেকিপের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেন্দির এই ব্যক্তিগত বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকাটি বিক্রি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া স্মারক নিলাম প্রতিষ্ঠান গোলডিন আয়োজিত গ্লোবাল ফুটবল অকশন পার্ট টু নামক এক আয়োজনে। গত ২৫ জুলাই নিলাম প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, যেখানে রেপ্লিকাটির মূল্য ওঠে ৬২ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সমতুল্য।

নিলামের তালিকায় রেপ্লিকাটিকে বিশেষভাবে 'ক্ষতিগ্রস্ত' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। জানা গেছে, ট্রফির নীচের অংশে কিছু ফাটল এবং ক্ষয়ে যাওয়ার চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। এরপরেও ক্রেতার আস্থা অর্জনের জন্য ট্রফির সঙ্গে মেন্দির স্বাক্ষর সংবলিত একটি সত্যতা সনদ বা সার্টিফিকেট অব অথেন্টিসিটিও প্রদান করা হয়েছে।

নিলামে এই ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে তিনি স্ন্যাপচ্যাটে একটি বার্তায় সরাসরি সমালোচকদেরই পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি লেখেন, 'ওটা আমার ট্রফি, নাকি তোমাদের? যাই হোক, ওটা আমারই। আমার ট্রফি, আমি যা ইচ্ছা তা-ই করব।' একই বার্তায় তিনি কৌতুকপূর্ণ সুরে যোগ করেন যে, জিনিসটি তাঁর আলমারিতে অহেতুক অনেক জায়গা দখল করে রেখেছিল।

তবে এতেও শেষ নয়, মেন্দি আরও এগিয়ে গিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে তাঁর সংগ্রহে থাকা অন্যান্য ট্রফিও একই পরিণতি বরণ করতে পারে। তিনি সরাসরি বলেছেন, ‘বিক্রি করার মতো আরও ট্রফি তো আছেই।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে পাড়ি দেওয়ার সময় ৫ কোটি ৮০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডার হিসেবে পরিচিতি পান মেন্ডি। তিনি ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ফরাসি শিরোপা জয়ী দলের অঙ্গ ছিলেন। ক্লাব পর্যায়ে চারটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা-সহ মোট আটটি বড় ট্রফি তার ঝুলিতে জমা হয়। কিন্তু ২০২১ সালে একাধিক ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে তাঁর উজ্জ্বল ক্যারিয়ার প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের আইনি লড়াই ও মাঠের বাইরে থাকার পর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তিনি সমস্ত অভিযোগ থেকে আদালতে খালাস পান। বর্তমানে তিনি সুইজারল্যান্ডের জুরিখের হয়ে খেলার পর ফ্রান্সের লরিয়ঁতে পোল্যান্ডের ক্লাব পোগোন জেসিনেতে খেলছেন, যেখানে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বলবৎ আছে।