আজকের ডিজিটাল যুগ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। ই-মেইল পাঠানো থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—প্রতিটি ছোট উদ্ভাবনই ইন্টারনেটের বর্তমান রূপকে গড়ে তুলেছে। তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাসে এমন ১২টি প্রথম ঘটনা রয়েছে, যা আজও স্মরণীয়।

১৯৭১ সালে রে টমলিনসন নিজের কাছেই প্রথম ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন। বার্তাটির সঠিক বিষয়বস্তু তিনি মনে করতে পারেননি, তবে ধারণা করা হয় এটি ছিল 'কিউ-ডব্লিউ-ই-আর-টি-ওয়াই-আই-ও-পি'-এর মতো এলোমেলো অক্ষরের একটি টেস্ট বার্তা। অন্যদিকে, ১৯৮৫ সালের ১৫ মার্চ নিবন্ধিত হয় ইন্টারনেটের প্রথম ডোমেইন নাম 'সিম্বোলিক্স ডটকম'। এই ঐতিহাসিক ডোমেইনটি বর্তমানে একটি সংরক্ষিত ওয়েবসাইট হিসেবে রক্ষিত আছে।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের সূচনা ঘটে ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট, যখন সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় প্রথম ওয়েবসাইটটি। এর ঠিকানা ছিল info.cern.ch/hypertext/WWW/TheProject.htm। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই ইন্টারনেটের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এর আগে, ওয়েবে প্রথম ছবি আপলোড করেন টিমোথি বার্নার্স-লি নিজেই। তিনি 'লেস হরিবল সার্নেটস' নামের একটি কমেডি ব্যান্ডের পক্ষ থেকে ছবিটি পোস্ট করেছিলেন।

১৯৯৩ সালের ৬ জানুয়ারি টেড লিওনসিস তাঁর স্ত্রীকে প্রথম এওএল ইনস্ট্যান্ট মেসেজ পাঠান। বার্তায় লেখা ছিল, 'ভয় পেয়ো না, এটি আমি'। জবাবে তাঁর স্ত্রী জানান, 'বাহ দারুণ তো'। লিওনসিস পরবর্তীকালে এওএলের ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। অনলাইনে প্রথম ব্যানার প্রকাশ করেন জো ম্যাকক্যাম্বলি, ১৯৯৪ সালের অক্টোবরে হটওয়্যার্ড ডটকমে। এটি ছিল টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এটিঅ্যান্ডটির পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত সাতটি শিল্পজাদুঘরের প্রচারণা।

অনলাইন নিলামের জগতে ইবে প্রথমে 'অকশনওয়েব' নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে সাইটটির মাধ্যমে বিক্রি হওয়া প্রথম পণ্য ছিল একটি ভাঙা লেজার পয়েন্টার, যার দাম উঠেছিল ১৪ দশমিক ৮৩ ডলার। ক্রেতা ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা পিয়েরে ওমিদিয়ার নিজেই, যিনি ভাঙা লেজার পয়েন্টার সংগ্রহ করতে ভালোবাসেন বলে জানিয়েছিলেন। একই বছর প্রতিষ্ঠিত অ্যামাজন থেকে প্রথম কেনা বইটি ছিল ডগলাস হফস্ট্যাডটারের 'ফ্লুইড কনসেপ্টস অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ অ্যানালজিস: কম্পিউটার মডেলস অব দ্য ফান্ডামেন্টাল মেকানিজম অব থট'।

২০০৩ সালের এপ্রিলে স্কাইপে উচ্চারিত প্রথম বাক্যটি ছিল এস্তোনীয় ভাষায়: 'তেরে, কাস সা কুলেড মাইন্ড?'—যার অর্থ, 'হ্যালো, আপনি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন?' ফেসবুকে যুক্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি ছিলেন মার্ক জাকারবার্গ নিজেই, যিনি ৪ নম্বর আইডি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলেন। প্রথম তিনটি অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত হওয়ায় তাঁর আইডি ছিল চতুর্থ। সহপ্রতিষ্ঠাতাদের বাইরে প্রথম সাধারণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হন অরি হাসিত।

ইউটিউবের ইতিহাস শুরু ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল, যখন সহপ্রতিষ্ঠাতা জাভেদ করিম স্যান ডিয়েগো চিড়িয়াখানা থেকে 'মি অ্যাট দ্য জু' শিরোনামের প্রথম ভিডিওটি আপলোড করেন। এই ভিডিওটি পরবর্তী সময়ে কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে। সবশেষে, টুইটারের (বর্তমান এক্স) সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি ২০০৬ সালের ২১ মার্চ প্রথম টুইট প্রকাশ করেন, যাতে লেখা ছিল 'জাস্ট সেটিং আপ মাই টুইটার'। এই সংক্ষিপ্ত পোস্টটিই খুদে ব্লগিংয়ের নতুন যুগের সূচনা করে।