নারী স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় অর্থায়নের পরিমাণ কতটা অপ্রতুল, তা নতুন করে সামনে এনেছে একটি বিশ্লেষণ। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনআইএইচ) মোট গবেষণা তহবিলের মধ্যে নারী স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ হচ্ছে মাত্র ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করতে একটি নতুন ২০ বিলিয়ন ডলারের কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। কৌশলটির মূল বক্তব্য হলো, নারী স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি আসলে একটি শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত সমস্যা। অর্থাৎ, কী নারী স্বাস্থ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে, তার সংজ্ঞা ও সীমারেখা নির্ধারণেই মূল জটিলতা রয়েছে বলে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দের এই অসমতা দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে ছিল। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারী স্বাস্থ্য গবেষণার পরিধি পুনর্নির্ধারণ এবং এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অর্থায়ন বাড়ালেই হবে না, বরং গবেষণার বিষয়বস্তু ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের পদ্ধতিতেও আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। কৌশলটির সাফল্য নির্ভর করবে কতটা সঠিকভাবে নারী স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয় দিকগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে গবেষণার মূলধারায় আনা যায়, তার ওপর। বর্তমানে নারী স্বাস্থ্য বলতে প্রজনন স্বাস্থ্য ও মাতৃস্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু হৃদরোগ, ক্যানসার ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতো নানা ক্ষেত্রে নারীদের আলাদা শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য ও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সেই গবেষণা পর্যাপ্ত নয়। এই কৌশল সে ধারণা পাল্টানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, গবেষণার ফলাফল নারীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকরভাবে প্রয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও নীতিগত পরিবর্তনের ফলে নারী স্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ গবেষণায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।