কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রকল্পের অগ্রগতি নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ এক সভায় তিনি জানান, গত চার মাসে এআই এজেন্ট প্রযুক্তির উন্নয়ন যে গতিতে এগোবে বলে আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। এর ফলে এআই এজেন্টভিত্তিক উদ্যোগগুলো এখনো কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেনি।
চলতি বছরের শুরুর দিকে মেটা বড় ধরনের পুনর্গঠনের ঘোষণা দেয়। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বৈশ্বিক কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় আট হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। একই সঙ্গে সাত হাজার কর্মীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। এআই অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করতেই এই পুনর্গঠন করা হয়েছিল। ২০২৬ সালে এ খাতে মেটার বিনিয়োগ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কর্মী ছাঁটাই ও পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অসন্তোষ তৈরি করেছে এবং কর্মীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ তৈরি এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। কর্মীদের জন্য এআইনির্ভর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, অফিসে অতিরিক্ত খাবারের ব্যবস্থা, ভ্রমণ বাজেট বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
সভায় কর্মীদের কম্পিউটারে বিতর্কিত মাউস ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহারের বিষয়ে মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ জানান, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যা থেকে বোঝা যায় কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য এআই মডেলের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পুনরায় সফটওয়্যারটি চালু করা হলে ব্যবহারকারী চাইলে তা বন্ধ রাখতে পারবেন।
পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী জাকারবার্গ। তাঁর মতে, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মেটার বিপুল বিনিয়োগের সুফল আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।




