নরওয়ের ফুটবলে এখন এক নতুন তারকার আলো ছড়াচ্ছেন আন্তোনিও নুসা। বয়স মাত্র ২১, আর ডাকনাম ‘নরওয়েজিয়ান নেইমার’। ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে এলোমেলো করে দেওয়ার দুর্দান্ত ক্ষমতার কারণেই তিনি পেয়েছেন এই তকমা। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি নেইমারকে আদর্শ মেনে বেড়ে ওঠা নুসার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এবারের বিশ্বকাপ মঞ্চেও। সর্বশেষ শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে আইভরিকোস্টের বিপক্ষে মার্টিন ওডেগার্ডের পাস ধরে ডান পায়ের নিখুঁত শটে টপ-রাইট কর্নার দিয়ে গোলটি করে নতুন ইতিহাস লিখেছেন তিনি। মাত্র ২১ বছর ৭৪ দিন বয়সে নরওয়ের ইতিহাসে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড এখন নুসার দখলে। সেই গোলেই নরওয়ে পেয়েছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম জয়ের স্বাদ।
আজ শেষ ষোলোর ম্যাচে নুসার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন তাঁরই চিরকালের আদর্শ নেইমার। জাপানের বিপক্ষে শেষ রাউন্ডের ম্যাচে খেলতে না পারলেও নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা প্রবল। ফিটনেস ফিরে পাওয়া নেইমার হয়তো বদলি খেলোয়াড় হিসেবেই নামবেন, নতুবা কোচ কার্লো আনচেলত্তির চমক হিসেবে সরাসরি একাদশেও দেখা যেতে পারে তাকে। লড়াইয়ের উত্তাপের মধ্যেও নুসা নিজের ফুটবল-আদর্শের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে ভুলবেন না—এমনটাই ধারণা করা যায়। গত বছর ক্লাব লাইপজিগের হয়ে ব্রাজিল সফরে সান্তোসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে এর আগে একবার দেখা হয়েছিল নুসা-নেইমারের। জার্সি বদল ও আলাপচারিতায় সেই স্মৃতি নুসার কাছে ‘অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত’।
নুসার শক্তির মূল জায়গা তার বৈদ্যুতিক গতির ড্রিবলিং। দুই পায়েই সমান পারদর্শী এই উইঙ্গার টাচলাইন ঘেঁষে বল পেয়ে ডিফেন্স চিরে কাট-ইন করে ভেতরে ঢোকার ক্ষমতা রাখেন। ২০২৩ সালে নরওয়ের মূল জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকেই আর্লিং হলান্ড ও ওডেগার্ডদের পাশাপাশি তিনিও দলের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। এখন পর্যন্ত নরওয়ের জার্সিতে ৯টি গোল করেছেন নুসা। তার উঠে আসার গল্পটাও বৈচিত্র্যময়। নাইজেরিয়ান বাবার সন্তান নুসা একসময় নাইজেরিয়ার জার্সি পরে সামাজিক মাধ্যমে ছবিও পোস্ট করেছিলেন, তবে জন্মস্থান নরওয়ের প্রতিই তাঁর আনুগত্য ছিল অটুট। অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক সব দল পেরিয়ে তিনি এখন সিনিয়র জাতীয় দলের অপরিহার্য অংশ।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্টাবায়েকের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর ২০২১ সালে যোগ দেন বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগাতে। সেখানেই ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিষেকে মাত্র ১৭ বছর ১৪৯ দিন বয়সে গোল করে সবার নজর কাড়েন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি জার্মান ক্লাব লাইপজিগের হয়ে খেলছেন এবং সেখানে ৭ গোল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন। টটেনহ্যাম হটস্পারের মতো বড় ক্লাবগুলোও ইতিমধ্যেই এই তরুণ প্রতিভার দিকে নজর রাখতে শুরু করেছে। হলান্ড ও ওডেগার্ডদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আলো ছড়ানো নুসার ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই—নুসার দিন তো সামনেই।




