দেশের জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একযোগে বেশ কয়েকটি বড় আমদানি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে মোট ১১৭ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সময়সীমার মধ্যে প্রথম তিন বছরে যথাক্রমে পাঁচ, ছয় ও ছয় কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০২৯ সাল থেকে শুরু করে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে। দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কারের (জেকেএম) সাথে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যুক্ত করে।
একই সভায় চলতি বছরের জন্য আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানি থেকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস এলএনজি, চীনের চায়না রানজে হোল্ডিংস গ্রুপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডারাব ইনকরপোরেটেড থেকে মোট আট কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এর আগে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি আমদানির বিষয়গুলো নীতিগতভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সার আমদানির ওপরও জোর দিয়েছে কমিটি। সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে দুই লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিয়েতনাম থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রতি মেট্রিক টনের দাম ধরা হয়েছে ৪৩৬ মার্কিন ডলার। এর বাইরে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির দুটি পৃথক প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কেনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে সভায়। টিসিবির জন্য নাবিল ফুডস থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি টন সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এসব ট্যাব সরবরাহ করবে নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস। বৈঠকে ফেনী সড়ক বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের পুনঃদরপত্রও অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভা কমিটির এই বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, কৃষি, খাদ্য, শিল্প, বাণিজ্য এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগের মোট ১৫টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়।




