দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছিল, তা উপেক্ষা করায় এই নির্বাচনে তারা অংশ নিচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি জানান, জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে আজ বেলা দুইটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের ২৫০ জন এবং বিরোধী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০ জন সংসদ সদস্য ছাড়াও ৮ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদটি আনুষ্ঠানিক হলেও জাতীয় সংকট ও জাতীয় নির্বাচনের সময় এই পদধারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তিনি সর্বজনীন ঐক্য ও আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ হিসেবে দলীয় রাষ্ট্রপতিকে দায়ী করা হয়েছে। এই সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিএনপিও সেই নীতিগুলোর সঙ্গে একমত ছিল এবং কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখেনি।
জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া নীতি অনুসরণ করে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন, তবে তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া সঙ্গত হবে না বলে মত দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। মহাসচিবের বিবৃতিতে জুলাই সনদের ধারা-১০-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা আছে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন এবং এতে বিএনপিও সম্মত ছিল। এছাড়া ধারা-২৮-এ জাতীয় সংসদে দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে অর্থ বিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে, যেখানে সবাই একমত ছিল।
কিন্তু বর্তমান নির্বাচনে জুলাই সনদের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি। তারা একে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, যে নীতি ও আইনে এই নির্বাচন হচ্ছে, তাকে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কি না এবং এর কোনো প্রয়োজন আছে কি না।
গাজী আতাউর রহমান তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন তা আগেই নিশ্চিত। ফলে এই আয়োজনকে ‘নাটক’ ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। এতে নির্বাচন কমিশন, সংসদ সদস্য ও সংসদের ভূমিকা অর্থহীন হয়ে পড়ে এবং জনগণের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় করা হয়। তারা এর নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে সেই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নতুনভাবে আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।




