দেশব্যাপী বিদ্যুতের চাহিদা কমাতে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে সরকার। বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক আদেশে বলা হয়েছে, বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শপিংমল, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। এর আগে গত ১১ জুন এই সময়সীমা রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।
নতুন এই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড বন্ধ রাখতে হবে এবং কোনো রকমের সাজসজ্জার আলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান কিংবা ভবিষ্যতে অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে আদেশটিতে। তবে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, ফার্মেসিসহ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সেই সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়।
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দোকানপাট খোলার সময় শিথিল করা হয়েছিল। ঈদের পর আবারও কড়াকড়ি আরোপ করে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ব্যবসায়ীরা দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জুন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় সরকার। এবার সেই সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে রাত ৮টায় নামিয়ে আনা হলো। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহেও সংকট দেখা দেয়, যার ধাক্কা লম্বা সময় ধরে অনুভূত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দিয়েই নতুন এই সিদ্ধান্ত বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




