তরুণ শিল্পী ম্যাড সাই সম্প্রতি নিজের সাম্প্রতিক ইপি ‘ক্যানাইনস’ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। ২৪ বছর বয়সী এই চীনা-তাইওয়ানি-পেরুভিয়ান সংগীতশিল্পী জানেন যে তিনি একজন পরীক্ষামূলক, বিকল্প ঘরানার ইন্ডি পপ-রক গায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং ‘স্টেসিস ব্রাদার’ ও ‘অল-আমেরিকান বিচ!’-এর মতো জনপ্রিয় গানের জন্য পরিচিতি পান। তবে এখন তিনি তার পপ তারকা হওয়ার অধ্যায় শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসভবন থেকে জুমের মাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে ম্যাড বলেন, “ম্যাড সাই সংগীতগত, ধ্বনিগত ও বিষয়গতভাবে নিজেকে খুঁজে বের করছেন এবং ধীরে ধীরে আরও বেশি করে পপের পথে পৌঁছাচ্ছেন।” তিনি এই মিনি-অ্যালবামে তাঁর শিল্পীসত্তার বিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “একজন শিল্পী হিসেবে বেড়ে ওঠা আমার কাছে খুবই উপভোগ্য। এই প্রকল্প আমাকে নিজেকে এবং আমার বিভিন্ন দিক অন্বেষণের সুযোগ দিয়েছে, যাতে ভক্তদের কাছে আরেকটু ব্যক্তিগত হতে পারি।” তিনি আরও জানান, এই গানগুলোতে তার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের কথা স্থান পেয়েছে, যেগুলোর কিছু ভালো আবার কিছু ভয়াবহভাবে শেষ হয়েছে।
অ্যালবামটির যাত্রা দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালের জুনে তাঁর প্রথম একক ‘বাইট’ প্রকাশের এক বছরেরও বেশি সময় পরে এটি আসছে। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বড় ঘটনার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্পটি বেশ কয়েকটি রূপ পরিগ্রহ করেছিল। প্রাথমিকভাবে অ্যালবামে রাখা কয়েকটি গান পরিবর্তন করতে হয়েছে, কারণ সেগুলোর ভাব আর তাঁর মনের সঙ্গে মিলছিল না। তিনি বলেন, “আমি অনেক গান লিখেছি, কিন্তু আমি চেয়েছি সেগুলোর অনেকগুলোর যাতে পপ মনে হয়— এমন গান যা শুনে নাচতে ইচ্ছে করে বা গাড়ি চালানোর সময় আরাম করে শোনা যায়। কিন্তু একই সাথে আমি চেয়েছিলাম এর কোনো গভীর অর্থ থাকুক বা আমি যে বড় গল্প বলছি, তার সঙ্গে এর যোগযোগ থাকে।” ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয় একটি আবেগী কিন্তু উচ্ছল নৃত্যপণ্য পপ ধারা, যা “আনুগত্য, মানুষের সম্পর্ক, আকুতি, ক্ষুধা, ঘনিষ্ঠতা, হৃদয়ভঙ্গ ও বিকাশের” বিষয়গুলোতে আলোকপাত করেছে। ম্যাড স্বীকার করেন, এটি এ পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ।
এই ইপির অনুপ্রেরণা সম্পর্কে ম্যাড বলেছেন, ভ্যাম্পায়ার সম্পর্কিত যেকোনো গণমাধ্যমই তার মনের খোরাক জুগিয়েছে। তিনি সবসময় হরর সিনেমার ভক্ত। ‘কিলার কুইন’-এর মতো গানগুলোর মাধ্যমে এটি ফুটে উঠেছে, যা ‘ক্যারি’ ও ‘জেনিফারস বডি’ থেকে সরাসরি অনুপ্রাণিত। ‘ইন্টারভিউ উইথ দ্য ভাম্পায়ার’ এবং ১৯৯৮ সালের চলচ্চিত্র ‘ব্লেড’-এর সেই রেভ দৃশ্য, যেখানে স্প্রিংকলার দিয়ে রক্ত পড়ছিল এবং ব্লেড ভ্যাম্পায়ারদের খুন করছিল, তা তাঁর মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি সেটি দেখেছিলেন, যা তাঁর মস্তিষ্কে অমলিন হয়ে আছে। এছাড়া কোরিয়ান অ্যানিমেটেড ‘মিগনো’সহ অন্যান্য ভ্যাম্পায়ার ছবি এবং গল্প দেখেছেন তিনি। ‘মিগনো’ সম্পর্কে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “এটি খুবই মশলাদার, সমকামী এবং ভাম্পায়ারকেন্দ্রিক। ছোট গল্পটি ‘বাইট’-এর জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা ছিল। এতোই সেক্সি, গে এবং ভ্যাম্পায়ারিক। সব কিছু মিশে একাকার হয়ে গেছে।”
‘বাইট’ প্রসঙ্গে ম্যাড ব্যাখ্যা করেন, এটি ছিল প্রকল্পের প্রথম গান এবং এটি তাকে পরবর্তী গানগুলো লেখার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছে। গানটি পরিবেশন করা তার জন্য একটি বিশেষ উপহার, যা প্রতি কয়েক মাস পরপর ভাইরাল হয় এবং মানুষ নতুন নতুন ট্রেন্ড তৈরি করছে। এই ইপি সম্পূর্ণ গল্প বলে, যা ‘বাইট’ দিয়ে শুরু হলেও শেষ হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জায়গায়। ‘বাইট’ গল্প বলার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, কিন্তু শেষ গন্তব্যটি আলাদা। এটি ভক্তদের জন্য তার ব্যক্তিগত সত্তার এক টুকরো এবং ভবিষ্যৎ তিনি কোন পথে যাচ্ছেন তার ইঙ্গিত।
‘মন চেরি…’ গানটি লিখতে গিয়ে প্রযোজক জ্যাক কপলিনের সাথে কাজ করার কথা জানিয়ে ম্যাড বলেছেন, তিনি ব্রিটনি স্পেয়ার্সের মতো সেক্সি এবং ‘ফ্যান্টম অফ দি অপেরা’-র মতো গথিক কিছু তৈরি করতে চেয়েছিলেন। ভাবনা ছিল, “যদি ‘ফ্যান্টম অফ দি অপেরা’ ও ব্রিটনির একটি সন্তান হয়, তাহলে তার শব্দ কেমন হবে?” গানটির তাল শোনার সঙ্গে সঙ্গে ভাবনা এসে গিয়েছিল এবং তিনি কিছু ফরাসি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ ফরাসি ভাষায় আকাঙ্ক্ষা ও কাউকে কাছে টেনে আনার একটি আলাদা মাদকতা রয়েছে।
‘নো ওয়ান্স সান’ গানটি প্রসঙ্গে ম্যাড নিজের অন্তর্মুখী স্বভাবের কথা বলেন। মানুষ প্রায়শই তার সংগীত ও অনলাইন ব্যক্তিত্ব দেখে ভুল করে তাঁকে বহির্মুখী মনে করে। কিন্তু তিনি সংরক্ষিত এবং একা থাকতে পছন্দ করেন। হাজার বছরের পুরনো ভাম্পায়ারদের নিঃসঙ্গতার ধারণা এবং বাইবেলীয় রূপকের মাধ্যমে নিজের যাত্রা ও সমকামী সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পান তিনি। একা পথ চলা, ভালোবাসা ও সম্পর্ক করতে না জানার বিষয়টি এই গানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ম্যাড আরও জানান, তাঁর মনের ভাব প্রায়ই বদলাতে থাকে। এক দিন অতি আত্মবিশ্লেষী হয়ে ‘হায় আমার অবস্থা’ ভাবা, তো পরের দিন পৃথিবী জয়ের সংকল্প। এই বিশৃঙ্খলাটাই তার শিল্পীসত্তার অংশ। ‘স্টার্ভড’ গানটি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অ্যালবামের সব গানের মধ্যেও তাঁর সবচেয়ে বেশি শোনা গান, কারণ এটি নাটকীয় দিকটি আবিষ্কারের সুযোগ দিয়েছে। এটি খুবই মাদকতাময় এবং আবেগতীব্র। গানটির কল্পনা শক্তির অমেষ ফুরিয়ে যাওয়ার কথা বলে—তুমি চলে যাওয়ার পর আমি কীভাবে মানিয়ে নেব? নতুন কারও স্বাদ নেওয়ার চেয়ে বরং উপোস থাকব।
‘ক্যানাইনস’র সব গানেরই দাঁতের ওপর জোর দেওয়া। ‘উইজডম টুথ’ গানের প্রসঙ্গে ম্যাড বলেছেন, জ্ঞানের দাঁত যেমন বড় হতে থাকে এবং ব্যথা করে ও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তেমনি বুঝতে পারি যে কিছু মানুষ আমাদের জীবনে থাকা উচিত নয় এবং তাদের সরিয়ে ফেলা দরকার। এটি ভালোবাসা, ক্ষতি এবং তা থেকে মূক্তির গাথা। আর ‘ডায়েট’ গানটি তিনি গায়িকা মারিয়া ল্যান্ডি ও প্রযোজক ডেভিড বালশ-এর সঙ্গে এক সেশনে লিখে ফেলেন। কয়েক মাস ধরে গানটি ধরে রাখার পর বন্ধুদের দেখালে তাদের চোখ চকচক করে ওঠে। এক শিল্পী বন্ধু মিকো এটিকে প্রকাশের জন্য উৎসাহিত করলে শেষ পর্যন্ত এটি ইপির অংশ হয়ে ওঠে।
নিজের দৈহিক পরিবর্তন ও আত্মবিশ্বাসের যাত্রা নিয়েও ম্যাড মন্তব্য করেন। পাশ্চাত্যের বাস্তুতায় এশীয় পুরুষদের সেক্সি হিসেবে দেখা হয় না—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি ভ্যাম্পায়ারিক ও গথিক পপ তারকা হয়ে উঠতে চান। তাঁর বোন জিমে গিয়ে পেশী বাড়ানোর পরামর্শ দিলে তিনি ব্যায়ামের প্রেমে পড়ে যান। তিনি চান অন্যরা, বিশেষ করে এশীয় পুরুষরা, তাদের শরীর নিয়ে স্বচ্ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসী হোক।
শীঘ্রই অনুষ্ঠেয় তার সফর প্রসঙ্গে ম্যাড ইউরোপ যাওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত, কারণ আগে কখনও যাননি। মজার বিষয়, ইউরোপের কিছু তারিখের টিকিট ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে, তাই তারা বড় জায়গা খোঁজার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নাটকীয়তা পছন্দ করায় এবং লেডি গাগা ও চ্যাপেল রোয়ানের মতো শিল্পীদের আদর্শে তিনি তার লাইভ শোকে থিয়েটারিকেল রূপ দিতে চান। বর্তমানে নাচের তালিম নিচ্ছেন, জিমে পরিশ্রম করছেন এবং গান ও নাচের অনুশীলন একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, সম্ভবত পরবর্তী প্রকল্পের এক-দুটি গান এই সফরে বাজিয়ে চমক দিতে পারেন।
ম্যাড সাই-এর ‘ক্যানাইনস’ এখন সব স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেই প্রকাশিত।




