দেশে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আরও সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের একজন এবং বরিশাল বিভাগের আরও একজন মারা গেছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৮১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৫ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এই পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক কোনো তথ্য তুলে ধরা হয়নি। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হয়, সেগুলোকে হামে মৃত্যু হিসেবেই গণনা করা হয়।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৮১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮ জনে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫০ জন। মোট ১৭ হাজার ৯৩০ জনের শরীরে এখন পর্যন্ত হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশে।