রিয়াল মাদ্রিদ তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফুটবলার হিসেবে আইভরি কোস্টের তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দেকে দলে ভিড়িয়েছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের জন্য স্প্যানিশ জায়ান্টরা বোনাস ছাড়াই ১০ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড এবং বোনাসসহ সর্বোচ্চ ১২ কোটি পাউন্ড (প্রায় ১৪ কোটি ইউরো) খরচ করছে। এর ফলে তিনি জুড বেলিংহামকে টপকে রিয়ালের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফুটবলার এবং আফ্রিকান ফুটবলারদের মধ্যেও সর্বোচ্চ দলবদল ফি-র রেকর্ডধারী হয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালে নিকোলা পেপেকে ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে আর্সেনালে নেওয়ার রেকর্ড ভেঙেছেন দিয়োমান্দে। কিলিয়ান এমবাপ্পের পর ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলবদল ফিতে ক্লাব বদল করা কিশোর ফুটবলারও এখন তিনি।
দিয়োমান্দের এই উত্থান মসৃণ ছিল না। ২০০৬ সালের ১৪ নভেম্বর আইভরি কোস্টের আবিদজানে জন্ম নেওয়া দিয়োমান্দে ছোটবেলা থেকে এএফআই সুদ কোমোয়ে একাডেমিতে খেলতেন। ২০২২ সালে ঘানায় অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টে পাঁচ গোল করে তিনি স্কাউটদের নজর কাড়েন। পরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মাল্টি-ক্লাব প্রতিষ্ঠান ব্লু ক্রো স্পোর্টস তাঁকে নিজেদের প্রকল্পে যুক্ত করে। দুবাই ও ফ্লোরিডায় ফুটবলের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি। তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে কাটাতে হয়। এই সময় প্রতিনিধিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি—তাঁর ছোট বোন রোকসানের মৃত্যু—তাঁর জীবন বদলে দেয়। ১৫ বছর বয়সী রোকসান একটি পার্টিতে বিষাক্ত পানীয় পান করে মারা যান। বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিয়োমান্দে বলেন, সবচেয়ে কঠিন সময়ে তাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা ছিল রোকসানের।
২০২৫ সালের মার্চে লেগানেসের রিজার্ভ দলের সঙ্গে অনুশীলনের সময় কোচ বোর্হা হিমেনেস তাঁকে প্রথম দেখেন। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে অভিষেক হয় তাঁর। লেগানেস অবনমিত হলেও দিয়োমান্দে ১০ ম্যাচে চমক দেখান। এরপর ২ কোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করে তাঁকে দলে নেয় লাইপজিগ। বুন্দেসলিগায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেন তিনি, জেতেন বর্ষসেরা নবাগত খেলোয়াড়ের পুরস্কার। বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে অভিষেক করে নজর কাড়েন।
দিয়োমান্দেকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল লিভারপুল ও পিএসজিও, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ আলোচনায় নামতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও আইনি জটিলতা সত্ত্বেও রিয়াল দ্রুত আলোচনা শেষ করে তাঁকে দলে ভিড়িয়েছে। রিয়ালের ডান উইংয়ের প্রয়োজন মেটাতে তাঁকে আনা হয়েছে, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে আক্রমণভাগে দেখা যাবে তাঁকে। নতুন কোচ জোসে মরিনিও ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজাচ্ছেন। ছোটবেলায় নকল রোনালদো জার্সি পরে ঘুমানো সেই কিশোর এখন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণের পথে।




