স্মার্টফোন পানিতে পড়ে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে আসা বেশিরভাগ স্মার্টফোন এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ওয়াটারপ্রুফ বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসছে। কিছু ফোন তো অ্যাকুরিয়ামের ভিতরেও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে। প্রশ্ন হলো, কীভাবে একটি জটিল ইলেকট্রনিক যন্ত্রকে পুরোপুরি পানি-রোধী করা সম্ভব হয়? এই প্রক্রিয়ার মূল চাবিকাঠি হলো ন্যানোকোটিং প্রযুক্তি। এটি অত্যন্ত পাতলা একটি বিশেষ আস্তরণ, যা মানুষের চুলের চেয়ে প্রায় এক হাজার গুণ বেশি সরু। এই ন্যানোকোটিং প্রয়োগের জন্য প্রথমে স্মার্টফোন বা ডিভাইসটিকে একটি ভ্যাকুয়াম চেম্বারে রাখা হয়। এরপর চেম্বারের ভিতরে উচ্চ গতিতে একটি বিশেষ গ্যাস ছাড়া হয়। এই গ্যাসের মধ্যে পানি-রোধী পলিমার নামক এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ থাকে। গ্যাসের চাপে সেই পলিমার ডিভাইসের পৃষ্ঠের সঙ্গে আণবিক স্তরে স্থায়ী বন্ধন তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় শুধু ডিভাইসের বাইরের অংশই নয়, হেডফোন জ্যাক বা চার্জিং পোর্টের মতো ভেতরের সূক্ষ্ম অংশগুলোতেও একটি অদৃশ্য সুরক্ষা আবরণ তৈরি হয়। এর ফলে ডিভাইসটি সম্পূর্ণরূপে ওয়াটারপ্রুফ হয়ে ওঠে। বাজারে ফোন কেনার সময় আমরা প্রায়ই IP67 বা IP68 রেটিং দেখতে পাই। এই রেটিংগুলো একটি ডিভাইসের পানি-রোধী ক্ষমতা নির্দেশ করে। এই রেটিং অর্জনের পেছনে ন্যানোকোটিং এবং উন্নত সিলিং প্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে। হাউ ইট ওয়ার্কস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, শীতকালে স্মার্টফোনের চার্জ ধীর হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য, তবে মূল প্রতিবেদনটি ওয়াটারপ্রুফ প্রযুক্তি নিয়ে।
ন্যানোকোটিং প্রযুক্তিতে স্মার্টফোন ওয়াটারপ্রুফ: কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?
আধুনিক স্মার্টফোন ওয়াটারপ্রুফ করতে ন্যানোকোটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ভ্যাকুয়াম চেম্বারে বিশেষ গ্যাস ও পলিমারের মাধ্যমে আণবিক স্তরে অদৃশ্য আবরণ তৈরি হয়, যা IP67/IP68 রেটিং নিশ্চিত করে।




