ক্রিকেট মাঠে সমিত ভাইয়ার বলে ছক্কা মেরে জিতেও চড় খেতে হয়েছিল শৌনককে। কারণ ওর ওপেনার হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ক্যাপ্টেন বলেছিলেন, 'টেন্ডুলকার এসেছেন!' দশ বছরের শৌনকের চোখ ফেটে পানি এলেও সবার সামনে কাঁদেনি সে। ঘরে ফিরে বাবার কাছে ঘটনা জানালে বাবা বললেন, 'কুছ পরোয়া নেহি, ১২ বছর হলে সবাই তোর খেলা দেখবে।' নতুন একটি ফুটবল কিনে এনে বাবা শৌনককে ফুটবল শেখার পরামর্শ দিলেন। সেই থেকে একা একা প্র্যাকটিস শুরু করে শৌনক। স্কুলের ড্রিল টিচার তাকে বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং আর পাসের কৌশল শিখিয়ে দিলেন। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ছয় মিনিট ধরে বল মাটিতে না ফেলে রাখার কৃতিত্ব দেখিয়ে সবার নজর কাড়ল সে। পলিন তাকে 'পেলে' আর অনুরাধা 'ম্যারাডোনা' বলে ডাকতে শুরু করল।বিশ্বকাপের সময় পাড়ার মাঠে ফুটবলই একমাত্র খেলা হয়ে ওঠে। সমিত ভাইয়া পেলের ভক্ত, জয় ভাইয়া ম্যারাডোনার। তাদের তর্ক রোনালদো, মেসি, জিদান, ফিগো, বেকহাম পর্যন্ত গড়ায়। শৌনক একেক দিন ব্রাজিলের হয়ে পেলে, আরেক দিন আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যারাডোনা হয়ে খেলে।পাড়ায় আয়োজন করা হলো ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি পর্যন্ত উচ্চতার শিশুদের ফুটবল টুর্নামেন্ট। পিতলের কাপ, বিশ্বকাপের আদলে প্রতিযোগিতা। শৌনক প্রথম চার ম্যাচে সাত গোল করে ফাইনালে পৌঁছে গেল। ফাইনালে প্রথমে ০-১ গোলে পিছিয়ে পড়লেও হাফটাইমের পর ঘুরে দাঁড়ায় ওরা। ২৫ মিনিটে কর্নার থেকে ব্যাকভলিতে প্রথম গোল, আর ১০ মিনিট পর নিজেদের হাফ থেকে পাঁচজনকে কাটিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দ্বিতীয় গোল করে শৌনক। ২-১ গোলে জয় পায় তার দল।সমিত ভাইয়া বলল, 'প্রথম গোলটা পেলের মতো।' জয় ভাইয়া বলল, 'দ্বিতীয় গোলটা ম্যারাডোনার মতো।' শৌনকের ঘোর তখনো কাটেনি। সে দেখতে পায় তার একটা পা পেলের, আরেকটা ম্যারাডোনার। গায়ে বাংলাদেশের জাতীয় দলের জার্সি। সামনের কোনো বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখে শৌনক। সমিত ভাইয়া জিজ্ঞেস করল, 'চোখে পানি কেন পেলে?' জয় ভাইয়া উত্তর দিল, 'ম্যারাডোনারা তো ভাবনার রাজ্যে হারিয়ে যাবেই।'