আজ বুধবার (৩০ জুলাই) বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী ববিতার ৭০তম জন্মদিন। ১৯৫৩ সালের এই দিনে বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে কানাডায় তাঁর একমাত্র ছেলে অনিকের সঙ্গে দিনটি কাটাচ্ছেন এই গুণী শিল্পী। ‘ফরিদা আক্তার পপি’ তাঁর প্রকৃত নাম। ৭০-এর দশক থেকে শুরু করে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বাংলাদেশি সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন তৈরি করেছেন।

শৈশব থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ ছিল ববিতার। তবে অভিনয়ের কোনো পরিকল্পনা তাঁর মাথায় ছিল না। একদিন পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘চাওয়া পাওয়া’ ছবির শুটিং দেখতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর চলচ্চিত্রজগতে পদার্পণ। প্রথম প্রস্তাব আসে পরিচালক জহির রায়হানের কাছ থেকে—‘সংসার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। কিন্তু প্রথমে রাজি হননি তিনি। পরে মা ও বোনের অনুরোধে অভিনয় করতে সম্মত হন। সেসময় তিনি ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ছবিটি সুপারফ্লপ হয়েছিল।

ববিতার মা ছিলেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। ছোটবেলায় মায়ের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। নিজেরও ইচ্ছা ছিল মায়ের মতো ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে অভিনেত্রী বানিয়েছে। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন খুব দুষ্টু প্রকৃতির। মা বিনা মূল্যে ওষুধ দিলেও মায়ের অনুপস্থিতিতে রোগীদের কাছ থেকে পয়সা নিতেন—এমনকি মাকেও জানতেন না। সেই পয়সা জমিয়ে বান্ধবীদের নিয়ে গুলিস্তানের নাজ সিনেমা হলে গিয়ে ‘হোটেল সাহারা’ সিনেমা দেখতেন, স্কুল ফাঁকি দিয়ে।

পরে জহির রায়হান আবারও তাঁকে ‘জ্বলতে সুরজ কে নিচে’ নামের একটি উর্দু সিনেমায় নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। প্রথমে যথারীতি রাজি হননি ববিতা, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৪। শুটিংয়ের বেশির ভাগ অংশ শেষ হলেও শিল্পীদের শিডিউল মেলাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি আর সম্পন্ন করা যায়নি। এরপর জহির রায়হান তাঁকে নিয়ে বাংলা সিনেমা বানান। মুক্তির পর সেটি সুপারহিট হয়। অভিনয়ের ইচ্ছা না থাকলেও সিনেমা হিট হওয়ায় আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি।

এরপর ‘স্বরলিপি’, ‘পিচঢালা পথ’, ‘টাকা আনা পাই’—প্রতিটি সিনেমায় রাজ্জাক-ববিতা জুটি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সবগুলোই ছিল সুপারহিট। সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে ববিতার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়। তিনি অভিনয় করেন সত্যজিৎ রায়ের প্রথম রঙিন সিনেমা ‘অশনি সংকেত’-এ। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পান তিনি।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ ছাড়া মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কারসহ আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা তাঁর ঝুলিতে। আজ তাঁর জন্মদিনে ভক্তরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।