মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটসহ নানা কারণে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হারে গত কয়েক মাস ধরেই অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। তবে দাম বাড়ার প্রবণতাই বেশি লক্ষণীয়। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার দেশের মুদ্রাবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ ডলারের বিনিময় হার আগের দিনের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গড়ে প্রতি ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। বেশ কিছুদিন পর সম্প্রতি ডলারের দাম বাড়তে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, আজ দেশের মুদ্রাবাজারে প্রধান কয়েকটি বিদেশি মুদ্রার মধ্যে ইউরো, পাউন্ড, চীনা ইউয়ান, অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুরি ডলারের দাম কমেছে। অন্যদিকে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার দাম কিছুটা বেড়েছে। জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার আগের দিনের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দরের চেয়ে খোলাবাজারে এসব মুদ্রার দাম কিছুটা বেশি হাতে বদল হয়। বিনিময় হারের এই ওঠানামার প্রভাব দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা ও বাণিজ্যিক লেনদেনের খরচের ওপরও পড়ে। বিশেষ করে কাঁচামাল ও জ্বালানি আমদানিতে ডলারের দাম বাড়লে ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে তেলের দামের পরিবর্তন ডলারের বিনিময় হারে প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়িয়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। তবে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন তারা।

দেশের রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহও বিনিময় হারের ওপর প্রভাব ফেলে। প্রবাসী আয় বাড়লে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা দাম কমাতে সহায়তা করে। তবে সম্প্রতি রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হওয়ায় ডলারের দামের ওপর চাপ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী দিনে বিনিময় হার আরও স্থিতিশীল হবে।