ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কি সংসদে আসতে ভয় পাচ্ছেন? প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বিলের বিতর্ক চলাকালে তিনি লোকসভা বা রাজ্যসভা কোনোটিতেই উপস্থিত ছিলেন না। গত ১২ বছরের মধ্যে এমন ঘটনা এই প্রথম। বিরোধী দলগুলো শাহকে শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচারের জন্য দায়ী করছে এবং তাকে সরাসরি ‘অপরাধী’ বলে আখ্যায়িত করছে। এমন পরিস্থিতিতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরব ভূমিকা পালন করছেন, যা থেকে বিরোধীদের প্রশ্ন, তিনি কি দায় এড়াতে মরিয়া? শুধু তাই নয়, তিনি নিজের নিয়মিত যাওয়ার রাস্তাও বদলে ফেলেছেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন না।

রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী সদস্যরা সরাসরি ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনলেও শাহ এ পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি। শুক্রবার পর্যন্ত টানা অনুপস্থিতির কারণে বিরোধীরা স্লোগানমুখর পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভে নামে, যেখানে প্রশ্ন করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন সংসদ থেকে উধাও। তারা রাম মন্দিরের কোষাগার লুটের প্রসঙ্গটিকেও সামনে নিয়ে আসে, যা শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর সরকারকে চাপে রাখার একটি নতুন কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিতর্কের জেরে দুই কক্ষের কাজই দিনভর মুলতুবি হয়।

রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে হুশিয়ারি দেন, পুলিশি বর্বরতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব দিতেই হবে, নাহলে তার ইস্তফা দেয়া প্রয়োজন। তিনি মন্তব্য করেন, শাহ দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে আছেন, কিন্তু বিরোধীরা তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে আনবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বিলটির ক্ষেত্রে বিরোধীরা সহযোগিতা করলেও, তারা কৌশলগতভাবে মি।শাহকে জবাবদিহির মুখে টানতে চেয়েছিল। কিন্তু জিতেন্দ্র সিং বিল পেশ করায় এবং স্পিকার জানিয়ে দেন যে বিল উত্থাপকই জবাব দেবেন, ফলে সুযোগটি কাজে লাগানো যায়নি।

লোকসভায় রাহুল গান্ধি অভিযোগ করেন, অমিত শাহর অনুমোদন ছাড়া ছররা গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটতেই পারে না। তিনি যুক্তি দেন, যদি শাহ দাবি করেন যে তিনি নির্দেশ দেননি, তাহলে তা তার অযোগ্যতার প্রমাণ, এবং সেই কারণেও পদত্যাগ করা উচিত। এই বক্তব্যকে শাঁখের করাত আখ্যা দেওয়া হয়। বিজেপির অনুরাগ ঠাকুর এর পাল্টায় রাহুলকে প্রমাণ দিতে অথবা ক্ষমা চাওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, আর খাড়গের ‘টেনে বের করা’র মন্তব্যকে হিংসার উস্কানি হিসেবে দেখছে শাসক দল।

রাহুল গান্ধির সুরে সুর মিলিয়েছেন সিজেপি নেতারাও। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে স্পষ্টভাবে বলেন, দিল্লি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে থাকায় ২০ জুলাইয়ের হামলা, পেলেট গান এবং বিহারে একে-৪৭-এর গুলির পুরো দায়ভার অমিত শাহের। বিদেশি অর্থায়নের গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এটাও মন্ত্রীর আরেকটি ব্যর্থতা, কারণ অনুদান বন্ধ করাটাও তাঁর দায়িত্ব। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও পুলিশি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে অভিন্ন দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা হচ্ছে, ঠিক কত দূর পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে এড়িয়ে চলতে পারবেন।