সামনের সারির যথেষ্ট পিছনে অবস্থান করা রুশ সরবরাহ ও লজিস্টিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করতে নতুন এক পদ্ধতি প্রয়োগ করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। সস্তা দামের এফপিভি (ফার্স্ট-পারসন ভিউ) ড্রোনগুলোর কার্যকর পাল্লা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেলুন ও স্টারলিংক মিনি টার্মিনালের সমন্বয় ব্যবহার করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশলগত গভীরতায় অবস্থান করা রুশ লক্ষ্যবস্তুগুলো এখন ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার আওতায় চলে এসেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত খরচের এই ড্রোনগুলো সাধারণত স্বল্প দূরত্বে কার্যকর হলেও নতুন এই পদ্ধতি তাদের কার্যক্ষেত্র বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। বেলুনগুলোকে আকাশে উড্ডীন অবস্থায় রাখা হয়, যার সঙ্গে স্টারলিংক মিনি টার্মিনাল যুক্ত থাকে। এই টার্মিনালগুলোর মাধ্যমে ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ সংকেত ও ভিডিও ফিড দূরবর্তী স্থানে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে পাইলটরা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি না গিয়েই অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারছেন।
এই কৌশলটি ইতিমধ্যে যুদ্ধের গতিপথে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। রুশ সেনাবাহিনীর সরবরাহ লাইন, অস্ত্রের মজুদ ও জ্বালানি ডিপোগুলোতে হামলার ঘটনা বেڑেছে। বিশেষ করে সামনের সারির ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করা লক্ষ্যবস্তুগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য। কেননা অত্যন্ত সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা ব্যয়বহুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে পেরেছে। একই সঙ্গে রুশ বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া এই ফাঁকফোকর তাদের সামগ্রিক যুদ্ধ কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বেলুনগুলো আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় এগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এই সংকেতগুলো জ্যাম করার চেষ্টা করতে পারে। তা সত্ত্বেও ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের ড্রোন হামলার কার্যকারিতা বাড়াতে এই উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহার করে যাচ্ছে, যা যুদ্ধের চলমান কৌশলগত বিবর্তনেরই প্রতিফলন।




