শতাধিক তলা বিশিষ্ট নিউইয়র্ক কিংবা শিকাগোর আকাশচুম্বী স্থাপনায় অবস্থান নিলে অনেক সময় মনে হতে পারে ভবনটি যেন দুলছে। তবে এটি কোনো মনের ভুল নয়; বাতাসের প্রবল চাপের কারণে উচ্চ ভবনের সামান্য নড়াচড়া একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ঘটনা। সাধারণত এই দোলনের মাত্রা অত্যন্ত কম। ঘণ্টায় একশ কিলোমিটারের বেশি বেগে বাতাস বইলে একটি আকাশচুম্বী ভবন আধা সেন্টিমিটারের মতো এদিক-ওদিক সরে যেতে পারে। ঝড়বৃষ্টি চলাকালে এই গতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তখন মাটি থেকে দূরে দাঁড়িয়ে দেখলে মনে হতে পারে যেন ভবনটি হেলে পড়ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মাণ প্রকৌশলীরা ব্যাখ্যা করেন, ঢাকায় মাত্র পাঁচ-ছয় তলা পর্যন্ত উঁচু ভবনের নকশায় বাতাসের প্রতিরোধকে উপেক্ষা করা যায় এবং সেক্ষেত্রে বিশেষ কোনো কাঠামোগত ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এর চেয়ে বেশি উচ্চতার ভবনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে বাতাসের চাপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত উপাদান হিসেবে গণ্য করে সেই অনুযায়ী নির্মাণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয়। উল্লেখযোগ্য যে, দেশে বর্তমানে ত্রিশ থেকে চল্লিশ তলার বেশি উঁচু কোনো ভবন নির্মিত হয়নি, তাই এমন চরম উচ্চতার স্থাপত্যের অভিজ্ঞতা এখানকার নির্মাণ খাতে এখনো সীমিত।
উঁচু ভবনের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আধুনিক নির্মাণশৈলীতে ইস্পাতের কাঠামো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই কাঠামোগত উপাদানগুলো বাতাসের প্রবল চাপে দুই থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত অনায়াসে বাঁকা হতে পারে। তবুও এগুলো পুনরায় সোজা অবস্থানে ফিরে আসে এবং কোনো ধরনের ফাটল ধরে না। ফলে ভবনের গঠনগত অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ থাকে।




