জাতীয় সংসদের জরুরি আলোচনায় উঠে এসেছে একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের বিষয়টি। বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর মনোযোগ আকর্ষণকারী নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট জানান, এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ওপর কোনো হেয়ারকাট আরোপ করা হবে না। বরং তারা তাদের মূল টাকার পাশাপাশি প্রাপ্য সুদও ফেরত পাবেন। তবে এজন্য কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রেহানা আক্তার রানু তার নোটিশে বলেন, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মালিকপক্ষ অর্থ পাচার করেছে। এর ফলে ৭৫ লাখ গ্রাহক তাদের কষ্টার্জিত টাকা তুলতে পারছেন না। তিনি দোষীদের শাস্তি ও সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে হেয়ারকাট বাতিলেরও আহ্বান জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করতে সরকার বহুমাত্রিক রেজল্যুশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে, যার আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়েছে। ফলে ওই পাঁচ ব্যাংকের সব আমানত, দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকে সংরক্ষিত হয়েছে। আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অর্থ ফেরত পাচ্ছেন। পাশাপাশি ব্যাংক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলমান। এর ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে সম্পদ পুনরুদ্ধার করা হবে। ইতিমধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, শিকদার, নাসা ও অরিয়ন গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া আরও মামলা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকদের সুদসহ টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন। দিন দিন লোকসান বাড়ছে বলেও তিনি জানান। তাই গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
একই অধিবেশনে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদধারীদের প্রসঙ্গও ওঠে। এনসিপির সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিগত দেড় দশকে প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিপুল সংখ্যক জাল সনদধারী নিয়োগ পেয়েছেন। প্রথম আলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ৯০ হাজার ৫২৭ জন সনদ যাচাইয়ে অন্তত ৮ হাজার সনদ জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। তিনি দ্রুত এদের চাকরিচ্যুতি ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, এসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।




