দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ছাড়াই কাটছে বাংলাদেশের। সেই খরা কাটানোর লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় দল। নতুন কোচ থমাস ডুলির নেতৃত্বে এই আসরটি দেশের ফুটবলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। এরই মধ্যে ঢাকার একটি হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন করা হয়েছে। টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হয়েছে স্মার্টফোন ব্র্যান্ড টেকনো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোচ থমাস ডুলি, জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার তপু বর্মণ ও শেখ মোরছালিনসহ অন্য অতিথিরা।
হাভিয়ের কাবরেরার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া ডুলির জন্য এটি প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টকে তিনি নিজের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেই দেখছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচ জিততে চান তিনি। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন—জার্মানি, ব্রাজিল বা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের আশপাশের কোনো দল—তিনি জয়ের জন্যই খেলবেন।
বাংলাদেশ দল যে ২৩ বছর ধরে সাফ জিততে পারেনি, তা ভালো করেই জানেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়কত্ব করা এই সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। তবে তিনি মনে করেন, সবকিছুই সম্ভব। টুর্নামেন্টকে গুরুত্ব সহকারে নিলে ট্রফি ঘরে তোলার সত্যিই দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, সাফ জয় বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং এখনই সেই স্বপ্নপূরণের সময়। একইসঙ্গে দর্শকদের মাঠে এসে সমর্থন জানানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরছালিন। ঘরের মাঠের এই আসরকে সামনে রেখে তিনি আশাবাদী। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হয়ে মাঠে স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চান তারা। সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি। ঘরের মাঠে যেভাবেই হোক জিততে হবে—এটাকে তিনি দলের জন্য দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণও আশাবাদী। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ, এবারও সেই সুবিধা কাজে লাগানোর ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। দেশের মাটিতে খেলা হওয়ায় দর্শকেরা মাঠে থাকবেন, যা দলের জন্য বাড়তি শক্তি জোগাবে বলে মনে করেন তিনি। তাদের প্রমাণ করতে হবে তারাই সেরা এবং যোগ্য।
গোল করার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তপু। কোচ তাঁকে বলেছেন, তিনি ডিফেন্ডার, তাঁর কাজ গোল সেভ করা। তবে কঠিন সময়ে দলের জয়ে অবদান রাখতে প্রয়োজনে তিনি গোল করারও চেষ্টা করবেন বলে জানান। সাফ সব সময়ই বাংলাদেশের জন্য কঠিন এক পরীক্ষা, কিন্তু ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে এবার সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্য তাদের।




