রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং আলোর পাঠশালা প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নবজাতক শিশুদের মায়েরা এই আয়োজনে অংশ নেন। 'জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান' — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজনটি করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফুড ফর দি হাংরি'র চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া প্রোগ্রামের ঝিলিম কমিউনিটি কার্যালয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মা ও নবজাতকদের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন এফএইচ অ্যাসোসিয়েশনের ঝিলিম কমিউনিটি কার্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটর আয়েশা খাতুন ও রুপলাল মুর্মু। এছাড়াও বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দাস, লুইশ মুর্মু এবং সিনিয়র শিক্ষক শিরিনা খাতুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ভলান্টিয়ার দর্শন হাঁসদা।

বক্তারা তাদের আলোচনায় তুলে ধরেন, সন্তান জন্মের পর মাতৃদুগ্ধই শিশুর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের নির্দেশনা অনুযায়ী, জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। এই শালদুধ শিশুর জন্য প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর টিকা হিসেবে কাজ করে, যা তাকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।

জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধই একমাত্র খাদ্য হিসেবে যথেষ্ট। এমনকি এই সময়ে শিশুকে এক ফোঁটা পানিও দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ মায়ের দুধেই শিশুর প্রয়োজনীয় সব পানি, পুষ্টি ও ভিটামিন রয়েছে। ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর থেকে মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার দেওয়া শুরু করা উচিত এবং শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ পান চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বক্তারা।