চাঁদের বুকে নতুন এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হলো ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রকেটের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে। গত ৫ আগস্ট ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের পরিত্যক্ত একটি অংশ ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল বেগে চাঁদের উপরিভাগে আছড়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতা ছিল প্রায় ৩ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান, ফলে চাঁদের বুকে তৈরি হয়েছে প্রায় ২৭ মিটার চওড়া ও ৫ মিটার গভীর একটি গর্ত। আঘাতের ফলে আশপাশের এলাকায় পাথর ও ধূলিকণা ছিটকে পড়ায় ওই স্থানটি আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দানুরি স্যাটেলাইটটি আঘাতের পরপরই ওই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় বেশ কিছু ছবি ধারণ করেছে। অন্যদিকে, স্পেনের ইনস্টিটিউটো ডি অ্যাস্ট্রোফিসিকা ডি আন্দালুসিয়ার গবেষকরা দাবি করেছেন যে, তারা ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ার সময় ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়ার ভিডিওও ধারণ করেছেন। শিগগিরই নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটার থেকে তোলা আরও স্পষ্ট ছবির মাধ্যমে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এবং ৩৯ ফুট লম্বা এই রকেটের অংশটি গত বছরের জানুয়ারিতে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। রকেটটির মূল অংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য হলেও এর পরিত্যক্ত অংশটি চাঁদে আছড়ে পড়ে। এই ঘটনাকে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের কাছে এক বিরল গবেষণার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণত চাঁদে প্রতিবছর হাজার হাজার উল্কাপাত ঘটলেও সেগুলোর আকার ও ভর সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায় না। কিন্তু ফ্যালকন ৯ রকেটের ওজন ও উপাদান জানা থাকায় বিজ্ঞানীরা এই আঘাতের নিখুঁত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।
ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের বিজ্ঞানী মার্ক বার্চেল জানিয়েছেন, এই আঘাত শুধু একটি গর্তই তৈরি করেনি, বরং এর ফলে ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ প্রচণ্ড বেগে ১০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রতিটি ছোট্ট টুকরাও চাপযুক্ত মহাকাশযানের বাইরের আবরণ ফুটো করে দিতে সক্ষম, যা নভোচারীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে এবং রোবটযানকেও অকেজো করে দিতে পারে। এর আগে ২০০৬ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার স্মার্ট ১ স্যাটেলাইট এবং ২০২২ সালে চীনের একটি মহাকাশযানের পরিত্যক্ত অংশ চাঁদে আঘাত হানার ফলে দুটি গর্ত তৈরি হয়েছিল।




