বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জেলা ও মহানগর পর্যায়ের কোচ নিয়োগ পরীক্ষায় মাত্র ২০ জন প্রার্থী সফল হয়েছেন। আবেদনকারী ২১৮ জনের মধ্যে অল্প সংখ্যকই উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন। লিখিত পরীক্ষায় অনেকে খালি খাতা জমা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। ব্যবহারিক অংশেও তারা আশানুরূপ দক্ষতা দেখাতে পারেননি। ফলে বিসিবির কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

নিয়োগের জন্য আবেদনকারীদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা অথবা লেভেল ওয়ান কোচিং কোর্স সম্পন্ন করার শর্ত ছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়াও বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু মাত্র ৯০ জন প্রার্থী এই দুটি শর্ত পূরণ করতে পারলেও বিসিবি সবাইকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। এ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে যে রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারিশের কারণে অযোগ্য প্রার্থীদেরও পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাকিফ আহমেদ অবশ্য এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যাপ্ত প্রার্থী পাওয়া যায়নি বলেই সবাইকে পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছিল। ২২ থেকে ২৪ জুলাই এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অধিকাংশ প্রার্থী পাস করতে না পারায় বিসিবি পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান ফাহিম সিনহা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তারা নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যারা ইতিমধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে যাদের সম্ভাবনাময় মনে হবে, তাদের ধরে রাখা হবে। নতুন পরীক্ষায় আবেদনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত থাকবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। ফাহিম সিনহার ভাষ্য, ‘এটি একটি প্রযুক্তিগত বিষয়, তাই আমরা এখানে যোগ্য লোকদেরই নিয়োগ দিতে চাই। এখন সবার জন্য সুযোগ উন্মুক্ত করে দিয়ে দেখা যাক তেমন কোচ পাওয়া যায় কি না।’ উল্লেখ্য, বিসিবি নিজেই তাদের নির্ধারিত নিয়োগ মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে বলে সমালোচনা চলছে।