বিশ্বের খুব অল্প সংখ্যক মানুষ, মাত্র ১০ শতাংশ, বাঁহাতি হিসেবে পরিচিত। আর এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহরের বাসিন্দা শ্রীধর চিল্লাল। তিনি তাঁর বাঁ হাতের নখ দীর্ঘ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম খোদাই করেছেন। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি এক হাতের দীর্ঘতম নখের সর্বকালীন রেকর্ডটি ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

শ্রীধরের বাঁ হাতের পাঁচটি নখের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ছিল ২৯ ফুট ১০ ইঞ্চি, যা উচ্চতার দিক থেকে প্রায় একটি তিনতলা দালানের সমান। প্রতিটি আঙুলের নখ আলাদাভাবে পরিমাপ করা হলে দেখা যায়, তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির নখ ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। এছাড়া মধ্যমা আঙুলের নখ ছিল ৬ ফুট ১ ইঞ্চি, অনামিকা আঙুলের ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি, কনিষ্ঠা আঙুলের ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং তর্জনী আঙুলের নখ ছিল ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি।

এই দীর্ঘ যাত্রার শুরু হয়েছিল ১৯৫২ সালে এক অদ্ভুত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে। তৎকালীন সময়ে শ্রীধরের এক বন্ধু ভুলবশত তাঁদের শিক্ষকের একটি লম্বা নখ ভেঙে ফেলেন। তখন শিক্ষক ছাত্রদের সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যতক্ষণ না তারা নিজেরা লম্বা নখ রাখছেন, ততক্ষণ নখ অক্ষত রাখার জন্য কতটা যত্নের প্রয়োজন তা তারা বুঝতে পারবেন না। এই কথাটিই ১৬ বছর বয়সী শ্রীধর এবং তাঁর এক বন্ধুর মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার জন্ম দেয় যে, কে সবচেয়ে দীর্ঘ নখ ধরে রাখতে পারে।

নখ বড় করার এই দীর্ঘ সময়ে শ্রীধরকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। পেশায় আলোকচিত্রী হওয়ায় ক্যামেরার কাজ করা তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই সমস্যা সমাধানে তিনি বিশেষভাবে নকশা করা একটি হ্যান্ডেল ব্যবহার করে ক্যামেরা পরিচালনা করতেন। এভাবে দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে তিনি তাঁর নখগুলো বড় করে রেখেছিলেন।

অবশেষে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তিনি নখগুলো কেটে ফেলার কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর তিনি অনুভব করেন যে, জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যটি তিনি অর্জন করে ফেলেছেন। নখ কাটার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কষ্টকর হলেও বর্তমানে তাঁর সেই রেকর্ডধারী নখগুলো নিউ ইয়র্ক এবং আমস্টারডামের বিখ্যাত 'রিপলি'স বিলিভ ইট অর নট' জাদুঘরে স্থায়ীভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে।