দিল্লিতে আগামীকাল (বুধবার) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ঘটনা প্রসঙ্গে ভারত সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, ওই অনুষ্ঠান বা সেখানে কোনো রকম মতামত প্রকাশের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংস্রব নেই। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটির আয়োজক একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা, যার সঙ্গে সরকারের কোনো লেনাদেনা নেই। ওই ধরনের অনুষ্ঠানে যা বলা হতে পারে, সরকার তা অনুমোদন করে না বলেও উল্লেখ করেন জয়সোয়াল। হিন্দি ভাষায় জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘সরকার এটাকে সমর্থন করে না’ এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনো ‘রিস্তা’ বা সম্পর্ক নেই।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেটস ক্লাবে (এফসিসি) বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়ার একটি কর্মসূচি রয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছিল তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন, তবে মঙ্গলবার জানানো হয় তিনি কেবল একটি অডিও বার্তা দেবেন। সেখানে আওয়ামী লীগের একাধিক পলাতক নেতা সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও এফসিসি সূত্রে জানা গেছে। ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন সজীব ওয়াজেদ। এর আগে, বাংলাদেশ সরকার এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে বাংলাদেশ সরকারের অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো নেতা যেন ভারতে অবস্থানকালে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেন, কারণ তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি ব্যাহত করতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা এবং তখন থেকেই তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। আন্দোলন দমন করতে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, ব্রিফিংয়ে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গে জয়সোয়াল বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রিত্ব লাভের সময়েই তাকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বর্তমান আমন্ত্রণটি ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যা প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী অন্যান্য আঞ্চলিক গোষ্ঠীর নেতাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এছাড়া, গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে জয়সোয়াল বলেন, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী প্রবাহিত। এগুলোর পানিবণ্টন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য যুগ্ম নদী কমিশন ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় কার্যপ্রণালি বিদ্যমান। এই কাঠামো অনুযায়ীই গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে যাবে।



