পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় থেকে সাবেক মন্ত্রী ও বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে রামপুরহাটের হাততলা পাড়ায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা তাঁর বাসভবনের খুব কাছেই অবস্থিত। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে এবং সেখান থেকে একটি কথিত সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ ২৫ বছর (২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত) রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় স্কুলশিক্ষা ও কৃষিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে ২৪ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তাঁকে রাজনীতিতে খুব একটা সক্রিয় দেখা যাচ্ছিল না। এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের জেলা সভাপতি থাকাকালীন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমে অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং দলটির টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়েছে। এই পটপরিবর্তনের পর বেশ কয়েকজন সাবেক বিধায়ক ও নেতা দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের মুখে পড়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু occurred।

পুলিশ উদ্ধারকৃত চিঠিতে লক্ষ্য করেছে যে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত বলে দাবি করেছেন। তিনি লিখেছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কখনো কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেনে জড়াননি। তবে দলের অভ্যন্তরে চলা অন্যায়গুলোকে তিনি মেনে নিতে না পারলেও কখনো প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলে উল্লেখ করেন। চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, রাজনীতিতে মতভেদ বা বাগ্‌বিতণ্ডা থাকলেও কারও সাথে তাঁর ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না এবং কাজের বিনিময়ে তিনি কখনো কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।

তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন সংস্থায় তাঁর প্রকৃত কোনো ক্ষমতা ছিল না এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ছোট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। টেন্ডার কমিটিতে তাঁকে রাখা হয়নি এবং কেবল সভাগুলোতে উপস্থিত থাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই অপমানের কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিজের বংশের সন্তানদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তারা যেন নিজেদের পেশাগত কাজে মনোযোগী হয়। এছাড়া শিক্ষকতা পেশার প্রতি তাঁর নিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি কখনো ক্লাস ফাঁকি দেননি এবং অনেক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পড়িয়েছেন, যার বিনিময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা পেয়েছেন। তবে চিঠিতে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেননি। পুলিশ বর্তমানে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সুইসাইড নোটের তথ্যের সত্যতা যাচাই করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে।