বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক কর্মকর্তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন বেবিচকের জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ এম রাশেদ সরকার।
ঘুষ গ্রহণের ঘটনাটি ২০১৯ সালের ঘটনা। রাকিব হাসান নামের এক ব্যক্তি ওই বছর কম্পোজিট পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন। তিনি ২০১৮ সালে বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্সের প্রথম ধাপ ‘এয়ার ল’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার জন্য ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর ফি জমা দিয়ে আবেদন জমা দেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, রাশেদ সরকার তাঁর আবেদন অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে দুবার বাতিল করে দেন। এরপর পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে তিনি রাকিবের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় ওই টাকা গ্রহণের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২২ সালের জুন মাসে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক এই রায় দেন।
রায়ের আদেশে রাশেদ সরকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। জব্দ করা এক লাখ টাকা অভিযোগকারী রাকিব হাসানকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আসামির কাছ থেকে জব্দ করা মুঠোফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও ক্রেডিট কার্ড রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা রাশেদ সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।




