গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়া গ্রাহকরা রোববার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। সাদুল্লাপুরের রেশমা বেগম নামের এক নারী তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদি ফিক্সড ডিপোজিটের (এফডিআর) পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করতে শাখায় গেলে কর্মকর্তারা জানান, তাঁর নামে কোনো স্থায়ী আমানতের তথ্য নেই। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রোববার আসতে বললে সেদিন তিনি উপস্থিত হয়ে নিশ্চিত হন যে তাঁর জমা রশিদ ও এফডিআর চেক সম্পূর্ণ ভুয়া।

এই খবর দ্রুত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে আরও বহু গ্রাহক শাখার সামনে ভিড় করেন। অনেকে খোঁজ নিয়ে দেখতে পান, তাদের জমানো টাকার হিসাবে বিস্তর গরমিল। ভুক্তভোগীদের মধ্যে হেলাল মণ্ডল জানান, তিনি তিন বছর আগে চার লাখ টাকা এফডিআর করেছিলেন, কিন্তু ব্যাংকে কোনো রেকর্ড নেই। একইভাবে লাজু মণ্ডলের সঞ্চয়ী হিসাবের ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার স্থলে জমা দেখানো হয় মাত্র এক হাজার টাকা। উত্তাল জনতা ব্যাংকটির তিনজন কর্মীকে আটকে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে বারোটার দিকে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক মতিউল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

এসআই মতিউল ইসলাম জানান, গ্রাহকদের হারানো অর্থ এক মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মীমাংসা হয়েছে। ব্যাংক কর্মীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাটির পরিচালক ওয়ালিউর রহমান দাবি করেন, ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও অফিস সহায়ক মাহবুল ইসলাম যৌথভাবে এই অনিয়ম ঘটিয়েছেন। তারা ৪৬ জন গাহকের আবেদনপত্র পূরণ করে, টাকা নিয়ে ভুয়া জমা স্লিপ ও স্ক্যানকৃত এফডিআর চেক সরবরাহ করতেন। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক শাখা হিসেবে কাজ করা রংপুরের পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হাদিউল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং গ্রাহকদের টাকা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে বলে নিশ্চিত করেন।