রুশ বাহিনীর তীব্র হামলার মুখে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ন্যাটো জোটের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য জোরালো আবেদন জানাবেন। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় এই বৈঠককে কাজে লাগিয়ে তিনি মিত্র দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানাতে চান। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিয়েভে দুটি পৃথক রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। হামলায় বহু আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। আঙ্কারার সম্মেলনে জেলেনস্কির ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে তিনি রুশ হামলাকে 'দুর্বলতা' হিসেবে আখ্যায়িত করে পুতিনকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করার কৌশল তুলে ধরবেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনও নিজস্ব দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে সেখানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সৃষ্টি করছে তারা। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, গত রাতে ইউক্রেনের নিক্ষিপ্ত ৪৩০টি ড্রোনের 'বেশিরভাগ' ধ্বংস করেছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা নিজ দায়িত্ব পালন করে এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, কিয়েভ যুদ্ধক্ষেত্রের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের বিমান বাহিনী প্রতিদিন রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। সোমবারের হামলায় প্রায় সব ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা গেলেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যর্থতার হার ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই হামলায় ইউক্রেন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ভূপাতিত করতে পারেনি, কারণ প্যাট্রিয়েট ক্ষেপণাস্ত্রের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় উৎপাদন বাড়ানো হয়নি, এটি একেবারেই অযৌক্তিক।' তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে তাদের মজুত প্যাট্রিয়েট ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তরের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বব্যাপী প্যাট্রিয়েট ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে এবং রাশিয়া যদি হামলা আরও বাড়ায় তাহলে কতটি ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে তা স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনের ড্রোন হামলাকে 'সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে অভিহিত করেছে রাশিয়া। অন্যদিকে জেলেনস্কি এটিকে 'প্রভাব বিস্তার অভিযান' বলে বর্ণনা করেছেন। গত জুনে সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের অর্থনৈতিক ফোরামের আগে একটি তেল টার্মিনাল ড্রোন হামলার শিকার হয়। মস্কোতে তেল শোধনাগারে হামলার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি সাইবেরিয়ার ওমস্ক শহরের তেল শোধনাগারেও হামলার নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। ক্রিমিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সামরিক সরবরাহ লাইন, তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে সেখানে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে এবং জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেছেন, পরিস্থিতি 'দুর্ভোগপূর্ণ' এবং ১৯৯০-এর দশকের অস্থির সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন, তবে তিনি এই সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে ৯০ মিনিট ফোনে কথা বলেছেন। জেলেনস্কি ন্যাটো বৈঠকে ট্রাম্পকে বোঝাতে চান যে ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপথ ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং পর্যাপ্ত সহায়তা পেলে রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কিয়েভ চায় যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে, শক্তি অথবা কূটনীতির মাধ্যমে, আরেকটি কঠোর শীত আসার আগে। জেলেনস্কির যুক্তি, সেজন্য শহর ও বেসামরিক জনগণকে রক্ষার জন্য আরও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন।