যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সম্প্রতি এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে প্রথমবারের মতো একটি বড়ি অনুমোদন দিয়েছে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নাটকীয়ভাবে কমাতে সক্ষম। এর আগে একই ধরনের ফলাফল পেতে ব্যয়বহুল ইনজেকশনের ওপর নির্ভর করতে হতো রোগীদের। নিউ জার্সির রাওয়ে শহরে সদর দপ্তর অবস্থিত মার্ক কোম্পানি তাদের এই ওষুধটির বাজারজাত করবে ‘লিপফেন্ড্রা’ ব্র্যান্ড নামে।
গত বৃহস্পতিবার অনুমোদিত এই ওষুধটি বিশেষভাবে সেই সব রোগীর জন্য প্রযোজ্য, যাদের ধমনীতে কোলেস্টেরল জমে গেছে এবং স্ট্যাটিন গ্রহণের পরও তা কমছে না। স্ট্যাটিন সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানোর জন্য নির্ধারিত মানসম্মত ওষুধ হিসেবে বিবেচিত। তবে উচ্চমাত্রার স্ট্যাটিন ব্যবহারের পরও অনেকের এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা চিকিৎসা নির্দেশিকার অনুকূলে নামিয়ে আনা সম্ভব হয় না।
এটি হলো প্রথম নন-ইনজেক্টেবল ওষুধ যা লিভারের পিসিএসকেও৯ নামক একটি প্রোটিনকে ব্লক করে কাজ করে। এই প্রোটিন রক্ত থেকে কোলেস্টেরল পরিষ্কার করার শরীরের সক্ষমতাকে সীমিত করে দেয়। অ্যামজেন ও অন্যান্য ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পিসিএসকেও৯-কে লক্ষ্য করে তৈরি ইনজেকশন সরবরাহ করে আসছে। তবে উচ্চ মূল্য, বীমা সংক্রান্ত নানা সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসকদের দ্বারা সীমিত প্রেসক্রিপশনের কারণে রোগীদের পক্ষে এই ইনজেকশনগুলো পাওয়া বেশ কঠিন ছিল।
মার্ক কোম্পানি তাদের এই বড়ির অনুমোদন দুটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ভিত্তিতে পেয়েছে। এসব ট্রায়ালে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের স্ট্যাটিনসহ তাদের মানসম্মত চিকিৎসার পাশাপাশি এই বড়ি দেওয়া হয়। প্রথম ট্রায়ালে প্রায় ৩,০০০ রোগী অংশ নেন। দেখা গেছে, ছয় মাস পর লিপফেন্ড্রা গ্রহণকারীদের এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা ৫৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। দ্বিতীয় ট্রায়ালে, যেখানে একটি নকল বড়ি (প্লাসিবো) তুলনামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেখানে রোগীদের কোলেস্টেরলের মাত্রা গড়ে ৫৯ শতাংশ কমেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এক বছর পরেও এই সুবিধা সামান্যই হ্রাস পেয়েছে এবং বড়ি গ্রহণকারী ও প্লাসিবো গ্রহণকারীদের মধ্যে মাথা ঘোরা ও ডায়রিয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার প্রায় একই রকম ছিল।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, এই বড়ি খালি পেটে গ্রহণ করতে হবে। এফডিএ ওষুধটি তাদের সেই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় পর্যালোচনা করেছে যা জনস্বার্থে কাজে আসতে পারে এমন প্রতিশ্রুতিশীল ওষুধের অতি দ্রুত পর্যালোচনার নিশ্চয়তা দেয়। এই পথটি তৈরি করেছিলেন তৎকালীন এফডিএ প্রধান ডা. মার্টি ম্যাকারি। তবে ওষুধ প্রস্তুতকারক, রোগী ও অন্যান্য বাহ্যিক গোষ্ঠীর চাপে গত মে মাসে তিনি পদত্যাগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত এবং উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল, যা ধমনীতে প্লাক জমিয়ে দেয়, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের জন্য একটি শীর্ষ ঝুঁকির কারণ। সুস্থ মানুষের জন্য এলডিএলের মাত্রা ১০০ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়। তবে উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগ দেখা দিলে চিকিৎসকরা এটি কমপক্ষে ৭০-এ নামিয়ে আনার পরামর্শ দেন এবং অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য আরও কম মাত্রা সুপারিশ করা হয়।




