ভারতের আসাম রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো ৬৩১টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে আছে। বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮-এ পৌঁছেছে। বন্যায় ৩৭ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি, অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ২ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি গবাদিপশুও এই দুর্যোগের কবলে পড়েছে।

ঠিক এমন এক সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে এসেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান। ব্যস্ত শুটিংয়ের সময়সূচির মধ্যেই তিনি নিজের ফ্যান ক্লাব ও দাতব্য সংস্থা বিয়িং হিউম্যানের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। সালমান খান ফ্যান ক্লাব (এসকেএফসি) আসামের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

ত্রাণ কার্যক্রম তিনটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে শিবসাগর জেলায় প্রস্তুত খাবারের প্যাকেট বিতরণ শুরু হয়েছে। গুয়াহাটি থেকে পাঠানো এই প্যাকেটে রাখা হয়েছে বিস্কুট, গুড়, চিড়া, মুড়ি, পাউরুটি, চিজ ও জ্যাম। অভিনেতার অগ্রাধিকার হলো প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে অন্তত তিন দিনের মতো খাবার পায়, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা টিকে থাকতে পারে। এছাড়া স্যানিটারি প্যাড, মশার কয়েল, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও বিতরণ করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় ধাপে আগামী সপ্তাহ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রেশনসামগ্রী ও ওষুধ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। তৃতীয় ও শেষ ধাপে বিয়িং হিউম্যান বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্কুল ও হাসপাতাল পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব নেবে বলে জানা গেছে।

এদিকে বন্যার্তদের জন্য সহায়তা সংগ্রহের অংশ হিসেবে ২৫ জুলাই একটি ইনস্টাগ্রাম লাইভ চ্যারিটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়। আসামের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পাপন এই কনসার্টে অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশাল দাদলানি, দিব্যা কুমার ও নীলোৎপল বরা। শিল্পীরা এই অনুষ্ঠানে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে মানুষকে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান। বন্যার পানির মধ্যে দিয়েই চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা। নৌকায় করে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সালমান খানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মুম্বাইয়ে নতুন ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকলেও তিনি আসামের ফ্যান ক্লাবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ত্রাণ কার্যক্রমের প্রতিটি পদক্ষেপ তদারকি করছেন। বিয়িং হিউম্যানের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে আরও সহায়তা পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।