কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় বিস্তৃত ঐতিহাসিক ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ নামে পরিচিত বনভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবিত করতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে হাইকোর্ট। প্রায় ২১ হাজার একর আয়তনের এই ম্যানগ্রোভ বনভূমিটি এক সময় ঘন সুন্দরবনের অংশ ছিল। বর্তমানে অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত ইজারা ও গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংরক্ষিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ফলে বনভূমিটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনভূমি পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে গত রোববার রুল জারি করেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করে। একইসঙ্গে, বনভূমির সব ধরনের অবৈধ ইজারা ও বরাদ্দ বাতিল এবং অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদ করে বনভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে আদালত। রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে ভূমিসচিব, পরিবেশ ও বন সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, কৃষিসচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের।

জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আশরাফ আলী, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী রুমানা শারমিন। বেলা জানায়, ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ ঐতিহাসিকভাবে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার একটি বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনভূমি। কালক্রমে অপরিকল্পিত ইজারা প্রদান, অবৈধ দখল এবং গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডি-রিজার্ভেশনের ফলে এটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে এই বনভূমিতে একটি মাত্র গাছ টিকে আছে বলে জানায় পরিবেশবাদী সংগঠনটি। পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একাধিকবার নির্দেশনা জারি করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি বলে দাবি বেলার। স্থানীয়ভাবে ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ নামে পরিচিত এই বনভূমি ১৯২৭ সালের বন আইন ও সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করে সংগঠনটি। এই আইনি লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে অবৈধ দখল ও ইজারা থেকে বনভূমি মুক্ত করে সম্পূর্ণ এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্যই চলতি মাসে রিটটি দায়ের করা হয়। এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।