ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজার শুক্রবার মূলত প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার কেনার আগ্রহের ওপর ভর করে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একই সময়ে জ্বালানি তেলের দামে দেখা দিয়েছে পতন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দেওয়ার পর এবং উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটে, যা বাজারে একধরনের টানাপোড়েন তৈরি করে।
ইউরোপীয় বাজারের শুরুর দিকে ব্রিটেনের এফটিএসই ১০০ সূচক ০.১ শতাংশ বেড়ে ১০,৪৭৮.৯৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ফ্রান্সের সিএসি ৪০ এবং জার্মানির ডিএএক্স উভয়ই ০.১ শতাংশ করে কমে যথাক্রমে ৮,৩২২.৩১ ও ২৫,০৮২.৫৮ পয়েন্টে নেমে আসে। মার্কিন বাজারের পূর্বাভাসে এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর ফিউচার ০.১ শতাংশ নিচে নামলেও ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজের ফিউচার ০.১ শতাংশ বেড়েছিল।
এশিয়ার লেনদেনে দক্ষিণ কোরিয়ার কস্পি সূচক সপ্তাহের শুরুর দিকের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭,৪৭৫.৯৪ পয়েন্টে পৌঁছায়। নিউ ইয়র্কের নাসডাকে শুক্রবার অভিষেক হতে যাওয়া মেমোরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ার সিউলে ০.৩ শতাংশ কমে যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.২ শতাংশ যোগ করে ৬৮,৫৫৭.৭৩ পয়েন্টে ওঠে। ওপেনএআই-এর গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগকারী সফটব্যাংক গ্রুপের শেয়ার ১০.৭ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে, আর চিপ সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ার ২.৭ শতাংশ বাড়ে।
হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০.৬ শতাংশ বেড়ে ২৪,১৭৫.১২ পয়েন্টে পৌঁছালেও সাংহাই কম্পোজিট সূচক ১ শতাংশ কমে ৩,৯৯৬.১৬ পয়েন্টে নেমে আসে। অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৮,৮০৬.০০ পয়েন্টে এবং ভারতের সেনসেক্স ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বিশ্ব তেল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী পারাপারে সক্ষম জাহাজের সংখ্যা সীমিত থাকায় জ্বালানি বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে শুক্রবারও তেলের দাম ওঠানামা করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ০.৫ শতাংশ কমে ৭৫.৯৪ ডলারে নেমেছে। ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরুর আগে এটি প্রায় ৭২ ডলারে লেনদেন হতো। মার্কিন বেঞ্চমার্ক ক্রুডের দামও ০.৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭১.৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ০.৮ শতাংশ এবং ডাও সূচক ০.৩ শতাংশ বেড়েছিল। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১.৩ শতাংশ উঠে ২৬,২০৬.৮৯ পয়েন্টে পৌঁছায়। সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ার ছিল এই উত্থানের নেতৃত্বে। মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক মাইক্রন টেকনোলজির শেয়ার ৪.৫ শতাংশ বেড়ে যায়, কারণ কোম্পানিটি ‘এআই যুগে মেমোরির জন্য চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী’ উল্লেখ করে তাদের মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (এএমডি)-এর শেয়ার ৫.৭ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে। মার্ভেল টেকনোলজি ৫ শতাংশ এবং ওএন সেমিকন্ডাক্টরের শেয়ার ৪.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
অন্যান্য লেনদেনের মধ্যে শুক্রবার সকালে মার্কিন ডলার জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ১৬২.৩৭ থেকে কমে ১৬১.৭১ ইয়েনে নেমে আসে। ইউরোর দাম ১.১৪৩০ ডলার থেকে সামান্য বেড়ে ১.১৪৩২ ডলারে লেনদেন হয়। জাপানের অর্থমন্ত্রী সাৎসুকি কাতায়ামা সংসদীয় কমিটিকে জানান যে, বড় পেনশন তহবিলগুলোকে দেশীয় ইয়েন-নির্দিষ্ট সম্পদে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, যার ফলে ডলারের বিপরীতে ইয়েন শক্তিশালী হয়।
এই প্রতিবেদনটি মূলত Fortune.com-এ প্রকাশিত হয়েছিল।




