নীলফামারীর ডোমার উপজেলা থেকে বসুনিয়ার হাট পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সড়কটির সংস্কারের জন্য সম্প্রতি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও তারা এখনও কাজ শুরু করেনি। এতে করে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।

বসুনিয়ার হাট এলাকাটি ব্যবসাকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রতিনিয়ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু সড়কের দুরাবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত সপ্তাহে সরেজমিনে দেখা যায়, ডোমার শহর থেকে সড়কের প্রবেশমুখে অসংখ্য গর্ত, যেখানে জমে আছে কাদাপানি। পুরো সড়কজুড়েই একই চিত্র।

সোনারায় ইউনিয়নের জাল্লির মোড় এলাকায় কথা হয় পূর্ব খাটুরিয়া গ্রামের আক্কাস আলী প্রামাণিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'এই সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বর্তমানে কাদাপানি জমে থাকলেও বৃষ্টি না হলে ধুলায় ঢেকে যায় পুরো পথ।' ডোমার পৌরসভার পশ্চিম চিকনমাটি মহল্লার বাসিন্দা নুরুজ্জামান ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'এত নেতা থাকার পরও সড়কের উন্নতি হয় না। সবাই ভোট নেয় আর চলে যায়, কেউ রাস্তা ঠিক করে না।'

জানা গেছে, ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে চলতি বছরের ২৩ জুন এসবি জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, ২৯ জুন কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ১৫ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু এখনও কাজ শুরু হয়নি।

এর আগে ২০২১ সালে এই প্যাকেজের কাজ পেয়েছিল মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও ইউনিক কনস্ট্রাকশন জেভি। তাদের ১৪ জুলাই ২০২১-এ কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তারা কাজ শুরু করলেও ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাজ বাতিল করে তাদের তিন কোটি টাকা জরিমানা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল জানান, কিছু মেজারমেন্ট বাকি আছে। সেটি শেষ হলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

এলজিইডির নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম আখতার বলেন, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এসবি জেভিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তারা শিগগিরই কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ডোমার-বসুনিয়ার হাট, ডোমার-আমবাড়ি ও বোড়াগাড়ি-বাবুরহাট—এই তিনটি সড়ক মিলিয়ে একটি প্যাকেজে ২০২১ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বর্তমান প্যাকেজের ব্যয় ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।