টুইলিওর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোজেমা শিপচ্যান্ডলারের দৈনন্দিন রুটিন অনেকের কাছে কঠোর বলেই মনে হতে পারে। ৫১ বছর বয়সী এই শীর্ষ নির্বাহী ফরচুনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে তার সকাল শুরু হয় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে। প্রথমেই তিনি স্ল্যাক, ইমেইল এবং মেসেজে কোনো 'জরুরি' বিষয় আছে কিনা তা দেখেন। এরপর কফি, নাশতা হিসেবে সাধারণত স্মুদি এবং খবরের শিরোনাম দেখে নেন। সবশেষে ব্যায়াম করেন — এই ক্রমটি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মেনে চলেন, যাতে শরীরচর্চার সময় তিনি দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবতে পারেন। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি 'আনুষ্ঠানিকভাবে' কাজে যোগ দেন, যখন কোম্পানির বেশিরভাগ ইঞ্জিনিয়ার সাধারণত সকাল ৯টায় শুরু করেন। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাতের খাবারের বিরতি। খাবার তিনি পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে খান, অথবা ভ্রমণের সময় গ্রাহক বা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় ৭৫ শতাংশ সময়ই তিনি ভ্রমণে থাকেন। রাত ৮টায় তিনি আরও এক ঘণ্টা কাজ করেন। এরপর ২০-৩০ মিনিট স্পোর্টসসেন্টার দেখেন অথবা বাড়িতে স্ত্রীর পাশে বিশ্রাম নেন। রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঘুমাতে যান। সপ্তাহান্তে তিনি সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ওঠেন এবং শনিবার ছাড়া রবিবারেও কাজ করেন। তিনি স্বীকার করেন, কাজের কথা না ভাবার জন্য তিনি শনিবারে মাত্র ৬-৮ ঘণ্টা সময় দিতে পারেন।
শিপচ্যান্ডলার মনে করেন, 'ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স' শীর্ষ পর্যায়ে সম্ভব নয়। তার মতে, যারা দীর্ঘ সময় কাজ ও ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত নন, তাদের পক্ষে সিইও পদে পৌঁছানো কঠিন। তিনি বলেন, প্রত্যেককেই নির্দিষ্ট কিছু কর্মজীবনের পছন্দ করতে হয়। তার নিজের ছেলের টেনিস ম্যাচে উপস্থিত থাকতে না পারার কথাও তিনি স্বীকার করেন। তবে যারা সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা কাজ করে সন্তানের খেলার কোচিং, সন্ধ্যা নিজের জন্য এবং অন্য শখের সময় রাখতে চান, সেটিকেও তিনি 'চমৎকার' বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু তার কথায়, তিনি এমন কোনো সহকর্মীকে পাননি যার রুটিন তার থেকে ভিন্ন।
তিনি যে শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের কথা বলেন, তার ফল তিনি তরুণ বয়সেই পেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করার পর শিল্প প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার শুরু করেন। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তিনি জিই-র বহু বিলিয়ন ডলারের ব্যবসার প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা হন। তার পরিবার মুম্বাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিল। তিনি মনে করেন, তার বাবা-মা চেয়েছিলেন তারা যেন তাদের চেয়ে ভালো করে এবং সেই লক্ষ্যেই তাকে কঠোর পরিশ্রমের শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ কর্মঘণ্টার পাশাপাশি তিনি 'স্মার্ট ওয়ার্কিং'-এর ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, যেসব মিটিং কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে না বা তাকে শক্তি দেবে না, সেগুলো তিনি করেন না। তিনি সাধারণত ৩০ মিনিটের স্লটে ২৫ মিনিটের এবং এক ঘণ্টার স্লটে ৫০ মিনিটের মিটিং রাখেন। এর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি বাড়ির চারপাশে এক পাক দিয়ে রক্ত সঞ্চালন বাড়ান। দুপুরের খাবারের পর তিনি সবসময় ১০ মিনিট ট্রেডমিলে হাঁটেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তিনি ব্যবহার করেন না, যা তার মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে। তার মতে, অভ্যাসই আসল বিষয় — এটি কাজকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এগিয়ে নিতে এবং বিভ্রান্তি এড়াতে সাহায্য করে।




