সম্প্রতি প্রকাশিত বিজ্ঞানচিন্তা ম্যাগাজিনের জুন ২০২৬ সংখ্যায় 'ডোডো' নামক একটি রম্যরচনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রচনাটির মূল উপজীব্য বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের প্রতি বাঙালি সমাজের উদাসীনতা ও অন্যান্য ফলের প্রতি অত্যধিক আসক্তি। লেখাটিতে কাঁঠাল নিজেই নিজের প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে হাস্যকর অভিযোগ তুলে ধরেছে। কাঁঠাল জানায়, ইংরেজিতে জ্যাকফ্রুট, ফরাসিতে জাকিয়ে ও আরবিতে জাক্কায়া নামে পরিচিত হলেও বাঙালির চোখে তার কোনো মূল্য নেই। অথচ তিনি দেশের জাতীয় ফল হিসেবে স্বীকৃত।
রচনায় বাঙালির ফলের পছন্দের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেখা যায়, আম, কালোজাম, লিচু ও তরমুজের প্রতি মানুষের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে তরমুজের এতই কদর যে 'তরমুজ ক্লাব' গড়ে তোলার কথাও শোনা যায়। অথচ একই রস ও পুষ্টিগুণ থাকা সত্ত্বেও কাঁঠালকে এড়িয়ে চলা হয়। কাঁঠালের প্রশ্ন, 'আমাকে রাজার পদে কী ভেবে বসালো? ভাব দেখে লাগে শুধু আমই বুঝি রসালো। কাঁঠালেও রস আছে, রস শুধু আমে না!' তার মতে, বাঙালির ভোজনরসিকতার তালিকায় কাঁঠালের স্থান নেই বললেই চলে।
লেখায় কাঁঠাল আরো জানায়, অবহেলা সয়ে সয়ে সে ক্লান্ত। মাঝে মাঝে মনে হয় ধুলায় মিশে যেতে। কিন্তু কেউ তার অবস্থা বুঝতে চায় না। শেষে কাঁঠাল হুমকি দিয়ে বলে, 'এ রকম অবহেলা ফি-বছর চলিলে দেশ ছেড়ে চলে যাব, লিখে রাখ দলিলে।' এই হাস্যরসাত্মক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় প্রতীক ও ঐতিহ্যের প্রতি প্রকৃত আচরণের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রকাশিত এই রচনাটি ফল বিষয়ে বাঙালির রুচি ও সাংস্কৃতিক পক্ষপাতিত্ব সম্পর্কে পাঠকমহলে চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে বলে জানা গেছে। বিজ্ঞানচিন্তার জুন সংখ্যা থেকে নেওয়া এই লেখাটি কাঁঠালের প্রতি অন্যায় অবজ্ঞার বিষয়টি একটি ভিন্ন ও মজাদার আঙ্গিকে তুলে ধরেছে।


