সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে মাসিক বরাদ্দ অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বৃত্তি নিয়ে বিদেশে বা দেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া কর্মকর্তাদের প্রেষণ (ডেপুটেশন) বাতিল করে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। অর্থ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে এ সংক্রান্ত দুটি চিঠি দেওয়া হয়েছে, যার তারিখ ৯ জুলাই।
প্রথম চিঠিতে বলা হয়, সীমিত সম্পদের ব্যবহার যথাযথ করতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো আবশ্যক। বর্তমানে যেসব কর্মকর্তা সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন, তারা ‘সেবা নগদায়ন’ পদ্ধতিতে মাসে ৫০ হাজার টাকা হারে রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা পেয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে এই ভাতা ২৫ হাজার টাকায় কমিয়ে আনার বিষয়টি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
দ্বিতীয় চিঠিতে পূর্ণ বৃত্তি বা ফেলোশিপ পেয়ে দেশে বা বিদেশে স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়নরত কর্মকর্তাদের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। বর্তমানে তারা বৃত্তির পাশাপাশি প্রেষণে থেকে সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা পান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে, এই কর্মকর্তাদের প্রেষণের বদলে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ওই সময়ে তারা কেবল অর্ধেক বেতন পাবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নির্দেশনা কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা কমে যাবে।
এর আগেই সরকার উপসচিব ও তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনার ৩০ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত সরকারি ব্যয় হ্রাস ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের চিঠিতে এই উদ্যোগকে বাজেট ব্যবস্থাপনার জন্য জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


