সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এখনও নিশ্চিত নয় যে ঢাকায় এই সিরিজটি আদৌ গড়াবে কি না। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিসিসিআই) জানিয়েছে, এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ধারণা ও অনুমতি নেওয়ার জন্যই তারা উদ্যোগী হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে বিসিসিআইয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের মতো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থানে নেই বোর্ড। সরকারের নির্দেশনা পেতেই তারা শিগগিরই যোগাযোগ করবে।

এই সফরে ভারতের তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে সিরিজ এবং ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর টি-টুয়েন্টি সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতীয় দলের ২৮ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা থাকলেও এখন সবকিছুই ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে বিসিসিআই। সূত্রটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে অনুমতি ও পরিষ্কার ধারণা পেতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। নিজেদের পক্ষ থেকে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে সফর নিয়ে বিসিসিআইকে চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিসিবির চিঠি তারা পেয়েছে এবং দুই বোর্ডের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি শিগগিরই আরও পরিষ্কার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে তারা।

এদিকে, চলতি বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশের উগ্রপন্থীদের হুমকির কারণে বিসিসিআই আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে নিলে বাংলাদেশ নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা বর্জন করে। আইসিসি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরে রাজি না হওয়ায় সেই টুর্নামেন্টে অংশই নেয়নি বিসিবি। তবে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছিল। কিন্তু সম্প্রতি দিল্লিতে দণ্ডিত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ সফরে এসে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল ভারতের। পরে দুই বোর্ডের সমঝোতায় সেই সফর পিছিয়ে এ বছরের সেপ্টেম্বরে আনা হয়। তখন আন্তর্জাতিক সূচি ও সময়ের সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল সফর পেছানোর কারণ হিসেবে।