সাতক্ষীরায় একই দিনে তিনজন আলোচিত নজরুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়েছেন, যার মধ্যে একজন জামিন পেয়েছেন এবং বাকি দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার কাকতালীয়ভাবে এই তিনজনের আদালতে উপস্থিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি নানা ঘটনায় জেলায় 'নজরুল ইসলাম' নামটি ব্যাপক আলোচনায় আসায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

আদালতে হাজির হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম এবং শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন উচ্চ আদালত। তবে বাকি দুজনের ক্ষেত্রে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ এসেছে। গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ২২ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়। এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর মামা বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এতে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ ও ভিডিও ফাঁসে জড়িত সন্দেহে মারধর এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনার পর জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিনি উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন, যা সোমবার বিকেলে মঞ্জুর হয়।

দুপুরে সাতক্ষীরার আদালতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে হাজির করে সদর থানার পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১৪ সালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের 'ক্রসফায়ারের' নামে হত্যার নির্দেশ ও মদদ দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি এই মামলাগুলো করা হয়েছে। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাশ মণ্ডলের আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ২৯ অক্টোবর ধার্য রয়েছে। আদালত চত্বরে দেখা যায়, পুলিশের পাহারায় তাকে আদালত ভবন থেকে বের করে গাড়িতে তোলা হচ্ছে। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং গাড়িতে ওঠার আগে তিনি লোকজনের দিকে হাত নাড়েন। পাশে থাকা কয়েকজন স্বজনকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া ছয় সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বুড়িগোয়ালিনী ইউপির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডল সোমবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও হুমকির অভিযোগের মামলায় শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগের মামলায় আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, একই দিনে একই নামের তিনজন আলোচিত ব্যক্তির আদালতে হাজির হওয়ার ঘটনা সাতক্ষীরায় সারাদিন আলোচনার বিষয় ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করেছেন লোকজন। সাইফুল্লাহ সুমন নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে তিনজনের ছবি দিয়ে লিখেছেন, 'আদালতে তিন নজরুল, দুইজন কারাগারে, একজনের জামিন।' আরেকজন আসাদুজ্জামান সরদার লিখেছেন, 'এখন নজরুল ইসলামদের দিন। দুই নজরুল সাতক্ষীরা আদালতে। আরেক নজরুল ঢাকার আদালতে।' রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ আবদুস সাত্তার নিশ্চিত করেছেন যে, মো. নজরুল ইসলাম ও হাজী নজরুল ইসলামকে পৃথক মামলায় শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।