১৩ দিন আগে ভেনেজুয়েলায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের তাণ্ডবে এখনও কাবু হতে পারেনি দেশটি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নও এখনো বাকি। সোমবার (৬ জুলাই) পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে। আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, ভূমিকম্পের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের কাছাকাছি হতে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে এখন আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় শেষ। উদ্ধারকর্মীরা বর্তমানে মৃতদেহ উদ্ধারের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, নিখোঁজ প্রিয়জনদের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ গত মঙ্গলবার সাত দিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ ঘোষণা করেন। সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ধসে পড়েছে বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নাসার স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা প্রায় ৫৯ হাজার, যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য হাসপাতাল ও স্কুল।

বিদেশে অবস্থানরত ভেনেজুয়েলীয় নাগরিকরা নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে সহায়তা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে উদ্ধারকাজে ধীরগতি নিয়ে তারা ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দুই চাচাতো ভাইবোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দাদা-দাদির সন্ধানে সাহায্য চেয়েছেন। কারাবায়েদা শহরে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত একটি সাততলা ভবনে বসবাস করতেন পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজ দে ভেলোজ দম্পতি। স্পেন থেকে ভ্যালেরিয়া ভেলোজ ইনস্টাগ্রামে জানান, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা তাদের বলেছেন, স্বজনদের সন্ধান পেতে ১০টি বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে হবে। এই কারণে পরিবারটি একটি ক্রেন ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির খোঁজ করছে। অরল্যান্ডো থেকে পেদ্রো ভেলোজ জানান, ভবনটি যেভাবে ধসে পড়েছে, তাতে ক্রেন ছাড়া ধ্বংসস্তূপ সরানো সম্ভব নয়।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের আগে থেকেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি। বছরের পর বছর ধরে জনসেবামূলক ব্যবস্থার দুর্বলতা, খাদ্য সংকট ও দারিদ্র্যের কারণে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল। ভূমিকম্প মানবিক দুর্ভোগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

গত রোববার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার তদারকির জন্য একটি নতুন সামরিক ইউনিট গঠন করেন। এদিকে লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সরকার। ওই কমপ্লেক্সের বাসিন্দা এস্টার বিরিয়ের এপিকে বলেন, তাদের আগামী তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণকাজ শেষ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার আগেও কাজ শেষ হতে পারে বলে জানান তিনি। পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়া প্রথম ভবনটি তারই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভূমিকম্পের মর্মান্তিক ঘটনায় একজন পিতা তার মেয়ের হাতের আংটি দেখেই তার মরদেহ শনাক্ত করেন। দুর্যোগের তাণ্ডবে নিখোঁজ অনেকের সন্ধান এখনও মেলেনি।