সাম্প্রতিক সময়ে সেলিব্রিটি সংস্কৃতির এক নতুন দিক দেখা যাচ্ছে, যেখানে ভক্তরা তাদের প্রিয় তারকাদের ব্যবহৃত পণ্য কেনার মাধ্যমে এক ধরনের মানসিক সংযোগ অনুভব করেন। দামি আইটেমের বদলে সাশ্রয়ী মূল্যের এই পণ্যগুলো ভক্তদের কাছে সেলিব্রিটির কাছাকাছি যাওয়ার অনুভূতি দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
টেইলর সুইফটের উদাহরণই এর স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি যখন ট্রাভিস কেলসের সঙ্গে বাগদানের ছবিতে পোলো রালফ লরেনের একটি ডোরাকাটা পোশাক পরেন, তখন সেই পোশাকটি দ্রুত বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার দোকান থেকে শেষ হয়ে যায়। অনলাইনেও এখনও সেই পোশাক স্টকে নেই। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপণন অধ্যাপক মার্কাস কলিন্স, যিনি ম্যাকডোনাল্ডসের ট্রাভিস স্কট মিল ও বাডওয়াইজারের জে-জেড ক্যাম্পেইনে কাজ করেছেন, তিনি ফরচুনকে বলেন, এটি ছিল একটি সাধারণ পোশাক, কিন্তু টেইলর সুইফট এটি পরায় ভক্তদের কাছে এটি অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে উঠেছে।
অপর দিকে, নরওয়েজীয় ফুটবল তারকা এরলিং হালান্ডের চুলের বাঁধনী নিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। বিশ্বকাপ দর্শকরা লক্ষ্য করেন, হালান্ড তার দেশের পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নরওয়ের তৈরি কেকনেকি (KKNEKKI) ইলাস্টিক ব্যান্ড ব্যবহার করছেন। এর ফলে ভক্তদের মধ্যে এই পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কোম্পানির বিপণন পরিচালক হেডা এঙ্গেলহার্ট ডেভিডসেন জানান, হালান্ডের এই হেয়ার টাই ব্যবহারের পর তাদের ওয়েব ট্র্যাফিক, খুচরা বিক্রেতার অনুসন্ধান এবং ভোক্তার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। হালান্ডের সীমিত সংস্করণের সংগ্রহটি দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
এই প্রবণতা শুধু পোশাক ও আনুষঙ্গিক পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বেকারি ও মিষ্টির দোকান টেইলর সুইফটের নামে কেক ও অন্যান্য খাবার বাজারজাত করছে। নিউ ইয়র্ক সিটি ভিত্তিক প্যাডোকা বেকারির ব্যবস্থাপক মেগান সেসিল ফরচুনকে বলেন, বেকারিটি সুইফটের বিয়ের ক্যাটারিং না করলেও তার ‘মিনি টেইলর ওয়েডিং কেক’ এবং অন্যান্য সুইফট-থিমযুক্ত কেক ও কুকিজ দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। সুপার বোল উপলক্ষে বেকারিটি ‘জাস্ট হেয়ার ফর টেইলর’ নামে কেক তৈরি করেছিল, যা খোলার প্রথম ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় এবং দোকানের বাইরে দীর্ঘ লাইন ছিল।
কলিন্সের মতে, যাদের পরিচয় টেইলর সুইফটের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, তাদের জন্য এমনকি একটি টেইলর সুইফট-থিমযুক্ত কেকও একই রকম আকর্ষণ বহন করে। তিনি আরও বলেন, যখন কোনো শিল্পী বা তারকা কোনো পণ্য ব্যবহার করেন, তখন সেই পণ্যটি ভক্তদের কাছে আরও গভীর অর্থ লাভ করে এবং তা সেলিব্রিটির প্রতি তাদের অনুরাগকে আরও দৃঢ় করে। সেলিব্রিটি-প্ররোচিত এই ভোক্তা আচরণ ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করছে।




