দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয় কাজল আগরওয়াল। সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর ক্যারিয়ারের বিবর্তন ও সমকালীন প্রসঙ্গ। অভিনেত্রীর কথায়, এখনকার সময়ে সামাজিক মাধ্যমের কারণে নিখুঁত উপস্থিতি বজায় রাখার চাপ অনেক বেড়েছে। জবাবদিহির পরিধি আগের চেয়ে ব্যাপক, যা অভিনেত্রীদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বর্তমানে ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ নামের ছবিটি নিয়ে ব্যস্ত কাজল। চেতন ডিকের পরিচালনায় এই সিনেমাটি বাস্তব ভিত্তিতে নির্মিত। কীটনাশক আর খাদ্যে ভেজালের মিশ্রণের নেতিবাচক প্রভাবই এর কেন্দ্রীয় বিষয়। কাজল এখানে একজন আইনজীবীর ভূমিকায় সত্য উন্মোচনের চেষ্টা করবেন। তিনি জানান, ছবির গবেষণা তথ্যগুলো তাঁকে প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে। নিজের ছোট জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে সবার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব তিনি বুঝতে পেরেছেন। ফলস্বরূপ, তিনি নিজেও পরিবারের খাদ্য নির্বাচনের বিষয়ে সতর্ক হয়েছেন এবং বন্ধুদের পণ্যের অনুমোদনপত্র যাচাইয়ের তাগিদ দিচ্ছেন। কাজল বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য চোখ খুলে দেওয়ার মতো। ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ মুক্তি পাবে চলতি মাসের ২৪ তারিখে।

আগেকার সময়ের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে কাজল উল্লেখ করেন, অভিনয় শুরুর দিনগুলোয় সামাজিক মাধ্যমের অস্তিত্ব ছিল না। তখন পোশাক নির্বাচন নিয়ে বাইরের কারও মন্তব্য শুনতে হতো না। বর্তমান তরুণী অভিনেত্রীদের অবস্থা দেখে তিনি মর্মাহত। তাঁদের উদ্দেশ্যে কাজল বলেন, নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকা আর আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা প্রয়োজন। সৌন্দর্যের মানদণ্ড নিয়ে সমালোচনা সর্বদা ছিল, কিন্তু আগে তা নির্মাতাদের কাছেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে সেটি নিষ্ঠুর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কাজলের ভাষ্যমতে, পেশাগত জীবনে প্রয়োজনে ‘না’ বলার শক্তি রাখা জরুরি। তিনি কখনো শুধু কাজের জন্য নিজের পছন্দের বাইরে সম্মতি দেননি। কাজ না হলে মেনে নেওয়ার মানসিকতা প্রথম থেকেই ছিল। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে ভুল পথে হাঁটতে বাধা দিয়েছে।

তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন, ‘ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকাটা সবচেয়ে বড় শক্তি।’

আগামী দিনে নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবিতে কাজল মন্দোদরীর চরিত্রে অভিনয় করবেন। তবে তিনি জানান, এই অংশের চিত্রায়ণ এখন পর্যন্ত শুধু প্রথম পর্বেই সীমিত। লঙ্কার কাহিনি অংশ ছোট হলেও এত জনপ্রিয় কাহিনির অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।