রাজশাহীর মো. মেহেদী হাসান প্রমাণ করেছেন যে, চাকরি ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দায়িত্বের মধ্যেও বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টানা সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার, ৪৬তম বিসিএসে শুল্ক ও আবগারি ক্যাডার এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা তাঁর প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা প্রথম আলোর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
সাবেক রুয়েট শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মতে, বিশাল সিলেবাস ও লাখো প্রতিযোগীর ভিড়ে সফলতার জন্য প্রথম শর্ত হলো কৌশলী ও পরিশ্রমী হওয়া। অফিসের পর ক্লান্ত শরীরে পড়াশোনার সীমিত সময়কে কাজে লাগানোর জন্য তিনি মূল বইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলেন। তাঁর পরামর্শ, বাজারের ভালো মানের একটি সহায়ক বই অনুসরণ করা যেতে পারে, কিন্তু একই বিষয়ের একাধিক বই না পড়ে নির্দিষ্ট একটি বই বারবার অধ্যায়ন করলে বিষয়টি গভীরভাবে আয়ত্ত হয় এবং শেষ মুহূর্তের রিভিশনও সহজ হয়।
বর্তমানে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার মধ্যকার বিরতি কম হওয়ায় শুরু থেকেই দুই পরীক্ষার জন্য একসঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মতো কমন বিষয়গুলো একই সঙ্গে উভয় পরীক্ষার জন্যই প্রস্তুত হয়ে যায়। নিয়মিত পত্রিকা পাঠের অভ্যাসও প্রিলি ও লিখিত উভয় ক্ষেত্রেই সহায়ক ভূমিকা রাখে।
নিজের সক্ষমতা যাচাইয়ে মডেল টেস্ট ও রিভিশনকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মেহেদী হাসান। বেশি সংখ্যক মডেল টেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে সময় ব্যবস্থাপনা, গতি ও নেগেটিভ মার্কিংয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। এটি দুর্বল জায়গাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সেখানে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। তিনি মনে করেন, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে সম্পূর্ণ সিলেবাস অন্তত দুইবার রিভিশন দেওয়া আত্মবিশ্বাস বাড়াতে জরুরি।
লিখিত পরীক্ষায় তথ্যের সুসংগঠিত ও বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনের দক্ষতা বাড়াতে ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিং অনুশীলন অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। কোনো সম্পাদকীয়, সাম্প্রতিক ইস্যু বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্দিষ্ট সময় ধরে লিখলে ভাষাগত দক্ষতা, যুক্তি উপস্থাপন ও বিশ্লেষণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা সাম্প্রতিক বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিসিএস প্রস্তুতিতে তথ্যের অন্যতম উৎস হিসেবে নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা, পাশাপাশি সাময়িকী ও ম্যাগাজিন পড়ার ওপর জোর দেন এই সফল ক্যাডার। অফিসের মধ্যাহ্নবিরতি বা অবসর সময়ে পত্রিকা পড়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। চলমান ঘটনা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি বা সংবিধান-সংক্রান্ত তথ্য শুধু লিখিত নয়, প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেও কাজে লাগে।
সপ্তাহের কর্মদিবসে দীর্ঘ সময় পড়া সম্ভব না হওয়ায় শুক্র ও শনিবারের মতো ছুটির দিনগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মেহেদী হাসান। এই সময়ে সপ্তাহের বাকি পড়া শেষ করা, রিভিশন ও মডেল টেস্ট দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিনোদনের সময় কমিয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি পূরণের পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি চাকরিজীবী প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ব্যস্ততার মধ্যে বিসিএস প্রস্তুতি সহজ নয়, তবে কালক্ষেপণ না করে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি ও ধারাবাহিক পরিশ্রমই সফলতার মূলমন্ত্র।




