ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইউএনওকে ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড় দেওয়ার পর লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বুধবার বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই এলাকায় বালু বিক্রির ঘাটটি ইজারা নিয়েছে। ঘটনার সময় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর সাথে আনসার ও র্যাবের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনও ইজারার কাগজপত্র দেখতে চাইলে সেখানে উপস্থিত ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু প্রথমে অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। পরে ইউএনও নিজের পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। কথার একপর্যায়ে ইউএনও সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন—প্রথমটি বাঁ হাতে এবং দ্বিতীয়টি ডান হাতে। এরপর র্যাবের এক সদস্য সারোয়াকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও তার হাত থেকে লাঠি নিয়ে তাকে চারবার আঘাত করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন বলেও ফুটেজে দেখা গেছে।

মারধরের শিকার সারোয়ার জাহান ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এবং সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। পরে তাকে র্যাবের গাড়িতে করে ধলা এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়, সেখান থেকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ জানান, তিনি প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নিয়ন্ত্রণাধীন এই বালুমহালটি ইজারা নিয়েছেন। পাঁচ-ছয় মাস আগে ইজারা পেলেও রাস্তা না থাকায় মাত্র ৮-১০ দিন আগে বালু সরানো শুরু করেছেন এবং সম্প্রতি কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বিক্রির কাউন্টার চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, কাউন্টারে ঢুকে ইউএনও কাগজপত্র দেখতে চাইলে কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজ আছে, এনে দেওয়া হবে—এই কথা বলার পরই ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মীকে মারধর করেন। বৈধভাবে ঘাটটি ইজারা নেওয়া হওয়ায় ঘটনার পর ইউএনওর সাথে দেখা করতে গেলেও তিনি দেখা করেননি বলে জানান শামসুজ্জামান।

এ বিষয়ে ত্রিশালের ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাদের দাপ্তরিক মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান ঘটনার ভিডিও দেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, এটি পেশাদারত্বের মধ্যে পড়ে না। কোন পরিস্থিতিতে ইউএনও কী করেছেন, তাকে জবাব দিতে হবে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে সে অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।