বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামনগর গ্রামে পরিচিত ‘পাখি কলোনি’ এলাকায় গাছ কেটে পরিযায়ী শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ধ্বংসের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা আজাহার আলীর বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় এই মামলা করেন বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন পারভেজ। মঙ্গলবার রাতে মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন জানান, গাছ বিক্রি করে পাখির বাচ্চা ও ডিম নষ্ট করার ঘটনায় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬-এর ৪১(৪) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, পাখির বাসা, ডিম ও ছানা নষ্টের ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বন বিভাগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার আজাহার আলী তাঁর জমিতে থাকা জলপাই, পিতরাজসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাতটি গাছ এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। এরপর সেগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, গাছ কাটার সময় সেখানে থাকা পরিযায়ী শামুকখোলসহ বিভিন্ন পাখির বাসা ভেঙে যায়, ফলে ছানা মারা পড়ে এবং ডিম নষ্ট হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসে।
ঘটনার পর বগুড়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, রামনগর গ্রামের অসংখ্য গাছে পাখির বাসা রয়েছে এবং এটি একটি ‘পাখি কলোনি’ গ্রাম হিসেবে পরিচিত। শামুকখোল পাখির বাসা থাকা গাছ কাটার বিষয়টি তিনি নিজেও দেখেছেন।
বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন পারভেজ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাঁর নির্দেশনায় পরবর্তী সময়ে মামলা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনগর গ্রামের এসব গাছ শুধু গাছ নয়, দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২০১৪ সাল থেকে গ্রামটি স্থানীয়ভাবে ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। উপজেলার পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্যমতে, গ্রামের প্রায় ৫০০টি গাছে পাখির বাসা রয়েছে এবং এসব গাছে দেড় থেকে দুই হাজার পাখির আবাসস্থল। শামুকখোল ছাড়াও অন্তত ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির পাখি এখানে নিয়মিত বসবাস করে।




